মনির হোসেন,বরিশাল ব্যুরো।।
বরিশালের অভিজাত শপিং মলগুলো ক্রেতাশূন্য থাকলেও ইতিমধ্যে জমজমাট হয়ে উঠেছে ফুটপাতের বেচা-কেনা। গত দুথবছর করোনায় বেচাবিক্রি না হলেও সেই লোকসান এবার কাটিয়ে উঠবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন বরিশালের ব্যবসায়ীরা।বুধবার (১৩ এপ্রিল) বরিশাল নগরীর বিভিন্ন শপিংমলগুলো ঘুরে দেখা যায়- অধিকাংশ অভিযাত শপিং মলগুলোই অনেকটাই ক্রেতাশূন্য। এর বিপরীতে ফুটপাতের দোকানগুলোতে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
ঈদ উপলক্ষে বরিশালের অভিজাত শপিং মলগুলোতে ব্যবসায়ীরা বাহারি পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসলেও এখনো আশানুরূপ ক্রেতার দেখা পাচ্ছেন না বলে জানান,নগরীর অধিকাংশ বিপণী বিতানগুলোর মালিকরা।এদিকে ঈদের বিশ দিন বাকি থাকলেও ইতিমধ্যে জমজমাট হয়ে উঠেছে বরিশালের ফুটপাতের বাজার। নি¤œ ও স্বল্প আয়ের মানুষ ঈদ কেনা-কাটা সারছেন ফুটপাত থেকে। এবারের কেনা-বেচা তুলনামূলক ভালো বলে জানান বরিশাল সিটি কর্পোরেশন সংলগ্ন ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা।
ঈদের কেনাকাটার জন্য নি¤œ ও নি¤œ মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজনের জন্য এক রকম আশীর্বাদ ফুটপাতের দোকানগুলো। সকাল থেকে গভীর রাত অবধি হকারদের হাঁকডাকে মূখর থাকে ফুটপাতের প্রতিটি দোকান।ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী এসব দোকানগুলোতে প্রায় সব কিছুই পাওয়া যায়। তার মধ্যে রয়েছে মেয়েদের বিভিন্ন ডিজাইনের থ্রি-পিচ, টু পিচ, লেহেঙ্গা, ফোরাগ এবং বিভিন্ন ধরনের কসমেটিকসহ সাধ্যের মধ্যে সব পণ্য। পাশাপাশি ছেলেদের জন্য রয়েছে পাঞ্জাবি, শার্ট, প্যান্ট, গেঞ্জিসহ বাচ্চাদের জন্য বাহারী নানান ধরনের পোশাক।মাঝে মাঝে বিত্তবানদেরও ফুটপাত থেকে কাপড়চোপড় কিনতে দেখা যায়। সব মিলিয়ে সাধ্যের মধ্যে সেরা জিনিসটা খোঁজার জায়গা এ ফুটপাতের দোকানগুলো।বাচ্চাদের জন্য ঈদের কাপড় কিনতে আসা নগরীর ৫নং ওয়ার্ড পলাশপুরের এক ক্রেতা শামীম বলেন, ‘একটা বেসরকারি কোম্পানীতে জব করি, বেতন ১২ হাজার টাকা।ওভার টাইম মিলিয়ে ১৫ হাজার টাকা পাই। ছেলে মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে চার জনের সংসার। ঘর ভাড়া, ছেলে মেয়ের পড়ালেখার খরচ, মাসিক বাজার করে আর হাতে টাকা থাকে না।
তার মধ্যে বর্তমানে যা বাজার মূল্য তা দিনদিন আমাদের মতো সাধারনের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। তারপরও সামনে ঈদ নিজেরা না কিনলেও বাচ্চাদের কিনে দেওয়া লাগে। একটু কমদামে কিনতেই ফুটপাতের দোকানগুলোতে আসাসোনারগাঁও টেক্সটাইল মিলে চাকরি করা আরেক ক্রেতা কাওসার বলেন, যে টাকা আয় তা দিয়ে সংসার চালানোই কষ্টের। তারপরও ঈদ আসলে সবার জন্য কিছু কেনা লাগে।বাচ্চার জন্য দুইটা টপস কিনেছি। ২৫০ টাকা করে পাঁচ শথ টাকা নিয়েছে। দেখতে প্রায় একই রকম পোশাক যদি ব্র্যান্ডের থেকে নিতাম তাহলে একেকটা ১৫০০ টাকা করে পড়ে যেত।আরেক ক্রেতা বলেন, কাপড়ের মান ভালো আছে। অনেক সময় ভালো পাওয়া যায়, অনেক সময় ডিফেক্ট পাওয়া যায়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়-মার্কেট ও ফুটপাতের কাপড়ের কোয়ালিটি প্রায় একই। কিন্তু মার্কেটে দোকান সাজানো দেখে মনে হয় গর্জিয়াস। কিন্তু আসলে মানটা এখানে ভালো।এক নারী ক্রেতা বলেন, আগের তুলনায় এ বছরের দামটা একটু বেশি মনে হচ্ছে। তারপরও পরিবারের জন্য কিনতে হবে। দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় মধ্যম আয়ের ক্রেতারা ফুটপাতমুখী হচ্ছেন বলে জানান সিটি কর্পোরেশন সংলগ্ন ফুটপাতের বিক্রেতারা।
এক বিক্রেতা জুলহাস বলেন, মার্কেটে দোকান ভাড়া বেশি। আমাদের এখানে দোকান ভাড়া লাগেনা। তাই আমরা একটু কম দামে বিক্রি করি। অপর এক বিক্রেতা বলেন, বিভিন্ন বয়সী ক্রেতা আসেন এই ফুটপাতের দোকানগুলোতে। সবাই কমদামে কিনতে পারে এখান থেকে।দিকে নগরীর চকবাজারের অভিযাত বিপণী বিতান জাহানারা মার্কেটের দোকান মালিক মিলন মল্লিক জানান, ঈদের এখনও ২০ দিন বাকি রয়েছে। কিছু কিছু ক্রেতা দেখতে আসছে।
আবার কেউ কিনছে। আজকে মোটামুটি কিছু ক্রেতা এসেছে। ঈদ ঘনিয়ে আসলে ক্রেতার সংখ্যা বাড়বে। তবে গত দুথবছর করোনায় পুরাই লোকসান গুনতে হয়েছে।দোকান ভাড়া ও কর্মচারীদের বসিয়ে বসিয়ে বেতন দিতে হয়েছে। এ বছর সেই লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা করেন এ ব্যবসায়ী।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮