মো.ইমরান হোসেন,
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি।।
ঈদুল ফিতরের ছুটিতে রাজধানী থেকে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে যাওয়ার একমাত্র মহা-সড়ক টঙ্গী থেকে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত যানজটে সীমাহীন দূর্ভোগের আশঙ্কা রয়েছে। র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের ১২ কিলোমিটার মহা- সড়কটি নির্মাণাধীন প্রকল্পের প্রায় ৭৩ ভাগ কাজ সম্পন্ন হলেও দুর্ভোগ কমছে না যাত্রীদের। এমনিতেই প্রতিদিন ওই সড়কে যানজট লেগেই থাকে তারপর ঈদে অতিরিক্ত যাত্রী ও যানবাহনের চাপে তৈরি হবে এক হ-য-ব-র-ল অবস্থা। এমন আশঙ্কা করছেন এ সড়কে চলাচলকারী যাত্রী, পরিবহন মালিক-শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্টরা।
অপরদিকে টঙ্গী থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত এ সড়কটি ঈদের সময় সচল রাখতে বিআরটি কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নানা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। বিআরটি কর্তৃপক্ষ বলছে, রাস্তার তিনটি অংশের মধ্যে মাঝখানের অংশটি বিআরটির নির্ধারিত গাড়ির জন্য রাখা হয়েছে। সেটির নির্মাণকাজ এখনো চলমান। পূর্ব ও পশ্চিম পাশে দুটি সড়ক দিয়ে সব ধরনের যান চলাচলের জন্য এরই মধ্যে পিচ ও সিসি ঢালাই দিয়ে নির্মাণ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। টঙ্গীতে কিছু অংশে নির্মাণকাজ চলমান। ঈদের আগে রাস্তাটি পুরোপুরি সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
চালক ও যাত্রীদের অভিযোগ, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের টঙ্গী থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার মহাসড়কের মধ্যে বর্তমানে টঙ্গী থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কে খানাখন্দ ও ভাঙাচোরা। ওই সড়কে কয়েক বছর ধরে বিআরটি প্রকল্পের কাজ চলমান খুবই মন্থরগতি । যার কারণে ১২ কিলোমিটার সড়ক অতিক্রম করতে এখন সময় লাগে ৫-৬ ঘণ্টা। কখনো কখনো এর চেয়েও বেশি। গত বছরের তুলনায় কয়েকগুণ মানুষ এবার ঈদে গ্রামের বাড়ি যাবেন। তাই ঈদযাত্রায় এবার চরম ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন ওই পথে চলাচলকারীরা।
তবে বিআরটি প্রকল্পের কর্মকর্তারা বলছেন, এখন সড়কের কিছু অংশ ভাঙাচোরা। বাকি অংশে কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। ঈদ মাথায় রেখে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। এখন পর্যন্ত প্রকল্পের ৭৩ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বিআরটি প্রকল্পের সড়কের ওপরে উড়ালসড়ক এবং নিচে কার্পেটিং এখনো অনেক জায়গায় শেষ হয়নি। কাজ চলমান থাকায় মহাসড়কের কোথাও তিন লেন কোথাও, কোথাও দুই লেনে পরিণত হয়েছে। এতে ওই পথে যানবাহন খুবই ধীরগতিতে চলছে। যার কারণে সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের। গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় যানবাহনের বেশ জটলা লেগে আছে। সেখানেও বিআরটি প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্পের কাজের কারণেই যানবাহনগুলো তাদের স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না। যে কারণে দুদিক থেকে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এরপর ভোগড়া বাইপাস মোড়ে সড়কের দুই পাশ দিয়ে এখন স্বাভাবিক গতিতে যানবাহন চললেও গাড়ি চাপ বেড়ে গেলে তখন সংকুচিত সড়কে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এরপর গাছা, মালেকের বাড়ি, বোর্ডবাজার, কুনিয়া বড়বাড়ি এলাকায় বিআরটি প্রকল্পের স্টেশন তৈরির কাজ চলমান থাকায় সেখানে যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না। গাজীপুরা এলাকায় সড়কের মাঝে উড়াল সড়ক তৈরির ব্লক রেখে দেওয়ায় দুই পাশে সংকুচিত সড়ক দিয়ে থেকে থেমে যানবাহন চলছে।
এরই মাঝে বৃষ্টি হলে তীব্র যানজটে যাত্রী -সাধারণের সীমাহীন দূর্ভোগ পোহাতে হবে।
সুত্র জানায়, ২০০৫ সালে করা ২০ বছরের পরিবহন পরিকল্পনার (এসটিপি) আওতায় বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়কে বাসের আলাদা লেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এটাই বিআরটি প্রকল্প, যা ২০১২ সালের ১ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন পায়। প্রকল্প শুরুর পর থেকেই সড়কটিতে গর্ত-খানাখন্দে মানুষজন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। প্রকল্পের আওতায় গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত চার কিলোমিটার উড়ালপথ, ছয়টি উড়াল সড়ক, ২৫টি বিআরটি স্টেশনসহ নির্মাণ করা হবে সাড়ে ২০ কিলোমিটার করিডোর। এর মধ্যে দুটি বিআরটি লেন, চারটি মিক্সড ট্রাফিক লেন, দুটি অযান্ত্রিক লেন, পথচারীর জন্য পাতালপথসহ সড়কের উভয় পাশে থাকবে ৬৫টি সংযোগ সড়কসহ অন্যান্য সুবিধা। চারটি সংস্থাকে ভাগ করে দেওয়া মোট কাজের ৭৩ শতাংশ শেষ হয়েছে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮