মো.ইমরান হোসেন,
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি।।
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে প্রবল বর্ষণের তৃতীয় দিনেও পৌরসভার ৫, ৭ ও ৮নং ওয়ার্ডের প্রায় চার সহস্রাধিক ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জলাবদ্ধতা কাটেনি । সেই সাথে বেশকিছু শিল্প-কারখানা জলাবদ্ধতার কারণে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ওইসব ওয়ার্ডের অধিকাংশ সড়ক ও বাসা-বাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। অপরদিকে বিভিন্ন টেক্সটাইল ও ডাইং কারখানার রাসায়নিক বজ্র পানিতে মিশে দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়েছে।
পৌরসভার হরিণহাটি, বিশ্বাসপাড়া, তিন নম্বর গেট, দিঘিরপাড়, ডাইনকিনি ও হরতকিতলা এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাট জলমগ্ন হওয়ায় এলাকাবাসী চরম বিপাকে পড়েছেন। তবে এই জলাবদ্ধতার জন্য অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ড্রেনের ওপর বহুতল ভবন নির্মাণ, বিভিন্ন টেক্সটাইল - ডাইং কারখানার বর্জ্য, নদী-খাল দখল, ও প্রশাসনের উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে পোশাক কারখানার শ্রমিকরা জলাবদ্ধতায় নানা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।
এলাকাবাসী জানায়, সাত্তার টেক্সটাইল, লিবার্টি টেক্সটাইল, ইন্টারস্টপ, আইমন টেক্সটাইল, এপেক্স ল্যান্জারী, ডিভাইন টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন ডাইং কারখানার রংমিশ্রিত বর্জ্র ও যেখানে -সেখানে উচ্ছিষ্ট খাবারের ময়লার ভাগাড়ে পঁচা -দুর্গন্ধে পৌরবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এমনি অবস্থায় সামান্য বৃষ্টি হলেই চরম দুর্ভোগে পড়েন এসব ওয়ার্ডের জনসাধারণ। অপরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ ও পানি নিষ্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এই অচলাবস্থা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. খাত্তাব মোল্লা বলেন, আনসার একাডেমির উত্তর পাশে পৌরসভার ড্রেনের ওপর একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করায় ভবনের নিচে ময়লা-আবর্জনা আটকে গিয়ে সহস্রাধিক ঘরবাড়ি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। ফলে ওই ভবনের নিচে পরিষ্কার করতে না পারায় জলাবদ্ধতা স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ওয়ালটন কারখানা কর্তৃপক্ষ পৌরসভার পানি নিষ্কাশনের ড্রেনের ওপর মাটি ভরাট করে বাউন্ডারি নির্মাণ করায় দুই সহস্রাধিক ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সড়ক জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এলাকার লোকজন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। আমরা এলাকার লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে ড্রেন পরিষ্কারের চেষ্টা চালাচ্ছি।
কালিয়াকৈর পৌরসভার মেয়র মো. মজিবুর রহমান বলেন, সারাদেশেই এই সমস্যা চলছে। আমাদের পানি যেদিক দিয়ে বের হয় সেদিক দিয়ে বেরও হচ্ছে কোনো বাঁধা নেই। তবে এত বেশি বৃষ্টি হয়েছে, আবার এদিকে নদীর পানিও বৃদ্ধি পাচ্ছে ফলে সহজে পানি বের হয়ে যেতে পারছে না। আমরা চেষ্টা করছি। আমাদের লোকজন সেখানে পানি নিষ্কাশনের জন্য কাজ করছেন। আশা করছি, অতি দ্রুত পানি চলে যাবে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮