
বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি।।
গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিন্ন নীতিমালার নির্দেশিকা প্রণয়নের জন্য ইউজিসি কর্তৃক যে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছিলো তার অস্পষ্টতা দূরীকরণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে আইসিটি পার্ক নির্মানের বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচির ৭ দিনের মধ্যে আজ ১ম দিনের কর্মসূচি আয়োজন করেছেন বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি।
আজ সোমবার (২১ শে নভেম্বর) দুপুর ১২ টায় এই কর্মসূচি শুরু হয়ে বেলা ১ টায় শেষ হয়। উক্ত এই কর্মসূচিতে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আন্দোলনের বিষয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এমদাদুল হক বলেন, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত সিনিয়র শিক্ষকবৃন্দের সমন্বয়ে একটি নীতিমালা তৈরী করে রিজেন্ট বোর্ডে পাঠানো হয়েছিলো কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেই নীতিমালাটি পাশ না করে ইউজিসির নির্দেশিকাটি পাশ করে নিয়েছিলো। ইউজিসির এমন অনেক শর্ত আছে যেগুলা আমাদের পেশাজীবনে অনেক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। যে কারণে আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালনে বাধ্য হই। আমরা শিক্ষকরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অতি দ্রুত আমাদের মৌলিক দাবীসমূহ আমলে নিয়ে এই অচলাবস্থা বন্ধ করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিবে”
এ বিষয়ে ইটিই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরিফুর রহমান রাজিব বলেন,”প্রায় দুই সপ্তাহ হলো আমরা আন্দোলনে আছি। আমরা শুনেছিলাম যে, তারা এফসিতে করেছেন কিন্তু এফসির কাগজ বা সংশ্লিষ্ট কোনো ডকুমেন্ট আমাদের হাতে দেয়নাই। আমরা আশা করবো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিন্ন নীতিমালার উর্ধ্বে যেই নূন্যতম নির্দেশিকাটি পাশ করেছেন সেটা এবং আইটি পার্ক অভ্যন্তরে নির্মাণের সিদ্ধান্ত বাতিল করবেন।
এ বিষয়ে এআইএস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ ফায়েকুজ্জামান মিয়া বলেন,” আমি আশা করছি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি খুবই গুরুত্বসহকারে এবং দ্রুততার সাথে আমাদের আশ্বাস এবং ডেট দিবেন তাহলে সেটার উপরেও আমরা আস্থা রাখতে পারি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কল্যাণ সাধনের জন্য শিক্ষকরা আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমরা এমন প্রত্যাশা করছি যে আগামীকাল এগারোটার মধ্যেই যেন উপাচার্য মহোদয় আমাদের একটা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত দেন।
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ সঞ্চালনার সময় বলেন,”বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক প্রেরিত যে নূন্যতম নিয়োগ ও পদোন্নতির নির্দেশিকা সাত নাম্বার পয়েন্টে বলা আছে যে,ফ্রেশ ক্যান্ডিডেট প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক হতে নূন্যতম ৩ বছর এবং সহকারী অধ্যাপক হতে সহযোগী অধ্যাপক হতে সাত বছর মোট দশ বছরের অভিজ্ঞতা হলেও এই নীতিমালায় বারো বছরের কথা বলা হয়েছে। এই বিষয়গুলো সংশোধন করবেন বলে প্রত্যাশা করি।”
পরিশেষে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. কামরুজ্জামান বলেন,”আমরা কখনোই নীতিমালা বা আইসিটির বিপক্ষে না। আমরা চাচ্ছি যেন ইউজিসি এমন একটা নীতিমালা করুক যেটা ভারসাম্যপূর্ন ও সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় যেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য শিক্ষাদান এবং গবেষনার কাজে উপযোগী হবে। আমরা বিশ্বাস করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের এই দুইটা দাবি দ্রুততম সময়ের মধ্যে রিজেন্ট বোর্ড করে সিদ্ধান্ত নিয়ে আসবেন”

















