মোঃ রাকিবুল হাসান
শেরপুর প্রতিনিধি।।
শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতি উপজেলা একটি কৃষি প্রধান এলাকা। তাই এলাকার অধিকাংশ লোক কৃষি ফসল উৎপাদনের সাথে যুক্ত। আয়ের প্রধান উৎস হলো ধান, পাট, গম, ভুট্টা, সরিষা ও নানা জাতের শাকসবজি। তবে প্রধান হিসাবে কৃষকেরা ধান উৎপাদনের উপর নির্ভরশীল। উৎপাদিত ধান নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বারতি ধান বাজারে বিক্রি করে থাকে। যাহ দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদায় যুগান্তকারী ভূমিকা রেখে আসছে। সূত্র মতে জানা যায় শেরপুর জেলার ৫ টি উপজেলাতেই প্রচুর পরিমানে ধান উৎপাদন হয়ে থাকে। যে কারনে শেরপুর জেলাকে খাদ্যে উৎপাদনের ভান্ডার হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এছাড়াও অত্র এলকার উৎপাদিত ধানের চাউল মান সম্মত হওয়ায় দেশে এই জেলার চাউলের ব্যাপক চাহিদা। কিন্তু কৃষকের উৎপাদিত ফসলের মূল্য ও বাজার বিক্রয় মূল্য হিসাব করলে কৃষক ও প্রান্তিক চাষিরা লাভের পরিবর্তে লোকসানে আছে। কারণ বাজারে প্রতি মন ধানের মূল্য ৯শ' থেকে ৯শ ৫০ টাকা বিক্রি করতে হচ্ছে। তাও আবার ৪০ কেজির স্থলে ৪২/৪৩ কেজিতে এক মন হিসেবে বিক্রি করতে হয়। উল্লেখ্য চলতি বোর মৌসুমে কৃষকের প্রতি একর জমিতে ফসল উৎপাদন করতে ৫০ হাজার থেকে ৫৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। প্রতি একর জমিতে ধান উৎপাদন হয়েছে ৫৫/৬০ মন। তাতে কৃষকের উৎপাদিত ধানের মূল্য সমান বা কিছু কম। সরকার ধান ক্রয়ের মূল্য নির্ধারণ করেছে প্রতি মণ ১২শ' টাকা। কিন্তু অত্র উপজেলায় সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের বরাদ্দ ১৩৫০ মেট্রিক টন। প্রতিজন কৃষকের বরাদ্দ ৩ মেট্রিক টন করে সরকারি গুদামে ধান দিতে পারবে। এতে অত্র উপজেলা ৭টি ইউনিয়নে মাত্র ৪৫০ জন কৃষক এই সুবিধা পেয়েছে। সিংহভাগ কৃষক উক্ত সরকারি গুদামে ধান বিক্রির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। উল্লেখ্য অত্র উপজেলার প্রায় ১৯ হাজার ৬শ' ৩৬ জন পরিবার ধান উৎপাদনের সাথে সরাসরি যুক্ত। অত্র উপজেলায় অকৃষি ভুক্ত কৃষক ১ হাজার ৪শ ২৭ জন। শ্রেনী ভুক্ত প্রান্তিক চাষি ৭শ ৩ জন, ক্ষুদ্র কৃষক ২ হাজার ৮শ ৫১ জন, মাঝারি চাষি ৬ হাজার ৮শ ৫৩ জন, বড় চাষি ৬ হাজার ৬শ ২ জন, ১২শ' লোক রয়েছে বর্গা চাষী। আংশিকভাবে যুক্ত রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৫শ' পরিবারের লোক। কৃষকদের কাছ থেকে জানা যায় সরকারি গুদামে লটারির মাধ্যমে ধান নেওয়ায় অধিকাংশ কৃষক বিরম্বনায় পরেছে। যদি কৃষকদের কৃষি কার্ডের মাধ্যমে ১ জন কৃষককে ৩ মেট্রিক টন ধানের পরিবর্তে ১/২ মেট্রিক টন ধানের পরিমান করে দেওয়া হতো তাহলে আরো অনেক কৃষক লোকসানের হাত থেকে বেচে যেতো। কৃষকদের দাবি সরকারিভাবে আরো বরাদ্দ বৃদ্ধি করা এবং সহজভাবে গুদামে ধান বিক্রির পথ উন্মুক্ত করা। প্রকাশ থাকে যে ঝিনাইগাতী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে প্রতি বছর বোর উৎপাদন হয় ১৪ হাজার হেক্টরের উর্ধ্বে এবং আমন উৎপাদন হয় ১৭ হাজার হেক্টরের মতো। তাই এলাকার কৃষক ও প্রান্তিক চাষীদের দাবি যাতে সরকারি গুদামে প্রতি মণ সরকারি মূল্যে সহজে বিক্রি করতে পারে সে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উদ্বোধন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছে এলাকার দরিদ্র কৃষকেরা।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮