
অরবিন্দ রায়
স্টাফ রিপোর্টার।।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন আওয়ামীলীগ সরকার কৃষকদের ভর্তকি দেয়। দেশে সার ও বিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধি করে। আওয়ামীলীগ সরকার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। আজকের বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ। কৃষি গবেষণার মাধ্যমে আমাদের কৃষকরা সারা বছর বিভিন্ন জাতের সবজি উৎপাদন করছে। গত ১৫ বছরে দেশে কোন সারের ঘাটতি দেখা যায়নি। সারের ঘাটতি দেখা দিলে আমরা ভর্তকি দিয়ে বিদেশ থেকে সার এনে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। বিএনপি সরকার কৃষকদের সারের জন্য কৃষক গুলি করে মারে। এশিয়ার বৃহত্তম সারকারখানা নরসিংদীর ঘোড়াশাল -পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রকল্প আজ রবিবার শুভ উদ্বোধন কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সব কথা বলেন।
শিল্প মন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এমপির সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিল্প মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব জাকিয়া সুলতানা, বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, নরসিংদী ২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলীপ এ ছাড়াও সিনিয়র সচিববৃন্দ, কূটনৈতিক মিশনের সদস্যবৃন্দ, জাপানি ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সাংবাদিকবৃন্দ।
উদ্বোধন হলো আওয়ামীলীগ সরকারের অন্যতম বড় মেঘা প্রকল্প দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ পরিবেশ বান্ধব সার কারখানা ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা।
জ্বালানী সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব কারখানাটিতে বার্ষিক ৯ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদিত হবে। এই মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে ১৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে ইউরিয়া সারের চাহিদা মোটানো ও সুলভ মূল্যে কৃষকদের নিকট সার সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, আমদানী হ্রাস করে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সার কারখানাটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, স্বাধীনতার পর নরসিংদীর পলাশে স্থাপিত দুটি সার কারখানার সক্ষমতা কমে যাওয়ায় সেখানে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন, শক্তি সাশ্রয়ী, পরিবেশ বান্ধব ও আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর নতুন সার কারখানা নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। ২০১৮ সালের অক্টোবরে নরসিংদী জেলায় ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ২০২০ সালে বিশ্ব জুড়ে করোনা ভাইরাস মহামারী রূপ ধারণ করলে প্রকল্পের ভৌত কাজ সাময়িকভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয়।
প্রকল্পের ভৌত কাজ ২০২০ সালের ১৬ আগষ্ট পূর্ণদ্যোমে শুরু হয়। যার দায়িত্ব পায় সিসি সেভেন নামে একটি চিনা এবং জাপানের মিৎসুবিশি হেভী ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এরপর দীর্ঘদিন পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি ২০২২ সালের ২১ এপ্রিল এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। দুই প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ২০২৩ এর ডিসেম্বরে এর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার দুইমাস আগেই এর কাজ পুরোপুরি শেষ হয়ে পরীক্ষামূলক সার উৎপাদন করছে কারখানাটি।
১১০ একর জমির ওপর নির্মাণাধীন জ্বালানী সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব কারখানাটিতে বার্ষিক ৯ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদিত হবে। এই মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে ১৫ হাজার ৫০০ কোটি ২১ লাখ টাকা। যার মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ৪ হাজার ৫৮০ কোটি ২১ লাখ টাকা আর জাপান ও চীনের ঠিকাদারদের যৌথ কনসোর্টিয়াম ব্যাংক অব টোকিও-মিতসুবিশি ইউএফজে লিমিটেড (এমইউএফজি) ও দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন লিমিটেড এইচএসবিসি ১০ হাজার ৯২০ কোটি টাকার ঋণ প্রদান করেন।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮