প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ৩:৩৮ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ নভেম্বর ১৩, ২০২৩, ৪:৪৪ এ.এম
গাজীপুরে তুসুকা কারখানায় হামলা-ভাঙচুর।।

মো.ইমরান হোসেন
স্টাফ রিপোর্টার।।
গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে শ্রমিক আন্দোলনে তুসুকা কারখানা ভাঙচুর লুটপাট মারধর ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় ২২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ বাদী হয়ে শনিবার ১১ নভেম্বর রাতে
কোনাবাড়ী থানায় মামলাটি করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে মঞ্জু খান (২৭) নামে এক যুবককে। তিনি পটুয়াখালী জেলা সদরের পুকুরজনা এলাকার এলাকার মো. ইউসুফ আলীর পুত্র ।
মামলার অভিযোগে জানাযায়, শ্রমিকদের হামলায় আনুমানিক ৫-৬ কোটি টাকার ক্ষতিসাধন এবং আট লাখ দুই হাজার টাকা চুরি হয়েছে। আসবাবপত্র, অফিস রুমে থাকা ২৫টি ল্যাপটপ, ৩৫টি পিসি, দুটি ফটোকপি মেশিন, তিনটি প্রিন্টার, একটি এলইডি টিভি, ৩০টি এক্সসেস কন্ট্রোলসহ (ফেস মেশিন) কারখানার বিভিন্ন ধরনের মেশিন, এয়ার কন্ডিশন ইউনিট, নভোএয়ারের ও রক্ষিত বাস এবং কারখানার অভ্যন্তরে থাকা ১২টি কাভার্ডভ্যান, ১১টি প্রাইভেটকার, একটি অ্যাম্বুলেন্স, ৫২টি সিসি ক্যামেরা এবং কারখানার ফ্লোরে থাকা রপ্তানিযোগ্য গার্মেন্টস পণ্য নষ্ট করা হয়।
হামলাকারীরা কারখানার সিকিউরিটি ম্যানেজার মুনসুর পাঠান, সিকিউরিটি ডিউটি কর্মকর্তা আ. রাজ্জাক, সিকিউরিটি গার্ড ফিরোজ এবং সিনিয়র অ্যাকাউন্টস কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনসহ রফিক, সাধারণ অপারেটর সালমা আক্তার, সাধারণ অপারেটর আর্জিনা আক্তার, ফ্লোর কিউসি রিয়াদ আহম্মেদ, সাধারণ অপারেটর শফিকুলসহ আরও অনেককেই মারধর করা হয়।
ঘটনার পর কারখানার সিটি টিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে ২৪ জনকে তারা চিহ্নিত করতে পেরেছেন। বাকি ২০০ জন হামলাকারীদের তারা চিহ্নিত করতে পারেনি। পরে ওই ঘটনায় তুসুকা কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ বাদী হয়ে মো. মঞ্জু খাঁনকে প্রধান আসামি করে ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেন। তবে পুলিশ রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
তুসুকা গ্রুপের পরিচালক মো. তারিক হাসান জানান সিটিসিভির ফুটেজ দেখে ২৪ জনকে চিহ্নিত করতে পেরেছি। সবাই আমাদের কারখানার শ্রমিক। বাকিদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।
কোনাবাড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মহিউদ্দিন ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান থানায় মামলা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। তবে গ্রেফতারের জন্য জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গাজীপুরে ২৩ অক্টোবর থেকে শ্রমিকরা বেতন বাড়ানোর দাবিতে বিক্ষোভ করে আসছেন। পরে মজুরি বোর্ডে বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা ঘোষাণা হলেও শ্রমিকদের একটি অংশ তা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন অব্যাহত রাখেন । সেদিন তুসুকাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় শ্রমিকরা ভাঙচুর চালায়। শ্রমিক আন্দোলনে এখন পর্যন্ত ১২৩টি কারখানায় ভাঙচুর হয়েছে। এসব ঘটনায় মামলার সংখ্যা হয়েছে ২৪টি। গ্রেফতার করা হয়েছে ৮৮ জনকে। শ্রমিক আন্দোলনে বিভিন্ন কারখানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আরও মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে বিভিন্ন কারখানা সূত্রে জানা গেছে।
যোগাযোগের ঠিকানাঃ মোল্লা ব্রিজ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪। মোবাইলঃ ০১৯১৮-৪০৪৭৬০, বিজ্ঞাপনঃ ০১৭৩৩-৩৬১১৪৮
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২