
আলী হোসেন রুবেল ভোলা।।
ভোলা সদর উপজেলার বাসস্ট্যান্ডে আবু বক্কর সিদ্দিক তানিম (১৮) নামে কলেজ পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী কিশোর গ্যাংদের হামলার শিকার হয়েছে । (১২ই এপ্রিল) ভোলা শহরের বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, আবু বক্কর সিদ্দিক তানিম (১৮) দক্ষিণবঙ্গ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট ভোলা’র সিভিল বিভাগের ২০১৯/২০ সেশনের ছাত্র। তিনি মঙ্গলবার কলেজ থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষা দিয়ে তার সহপাঠীদের সাথে বাসায় ফেরার পথে ভোলা বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বিশ্বরোড মোড়ে গেলে কিশোর গ্যাংদের মধ্যে দুইজন রিক্সায় তুলে হেলিপ্যাড মাঠের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে থাকা কিশোর গ্যাংদের অন্যান্য আরো ১২/১৩ সদস্যরা মিলে হকিস্টিক দিয়ে শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এতে কলেজ ছাত্রের ডান পাশের কান ছিরে রক্তাক্ত হয়। তাতে প্রায় ৫টি সেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়াও শরীরের বিভিন্ন স্থানে নিলাফোলা ও মারাত্মক জখম হয়েছে।
ঐ সময় তানিমের সাথে থাকা সহপাঠী মোঃ ইউসুফ, সৌরভ, সাগর বলেন, আমরা বিশ্বরোডের মোড়ে যাওয়া মাত্র একটা রিক্সা দিয়ে দুইটা ছেলে এসে তানিম কে জিজ্ঞেস করে। পরে তানিম পরিচয় দিলে তাকে রিক্সায় উঠতে বলে এবং তানিমের সাথে কথা আছে বলে ফায়ার সার্ভিসের উত্তরপাশে হ্যালিপ্যাড মাঠের কাছে নিয়ে যায়। আমরা পিছন পিছন দৌড়ে গিয়ে দেখি তানিমকে প্রায় ১২/১৩জন মিলে মারতেছে। আমরা ডাক চিৎকার দিলে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। কিন্তু যাওয়ার সময় তারা বলে ‘আজ হত্যা করি নাই; আরেক দিনের জন্য রেখে দিছি’ বলে হুমকি দিয়ে যায়। পরে তাকে অজ্ঞান ও মুমূর্ষু অবস্থায় ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিশোর গ্যাংদের প্রধান মেহেরাব (২০), ফাহাদ (১৮), ইয়ামিন (১৯) চিনেছেন বলে জানান তারা। হামলার সময় তানিমের কাছে থাকা ডেল- এর কোর আই-৫ মডেলের একটি ল্যাপটপ, একটি ভিভো ণ২১ মোবাইল ফোন, পকেট থেকে ১৬৭০ টাকা কলেজ ব্যাগে বইসহ নিয়ে পালিয়ে যায়।
চরফ্যাশন থেকে আসা কলেজ পড়ুয়া আরেক শিক্ষার্থী মিরাজ বলেন, ১০ দিন আগে আমাকে এই কিশোর গ্যাং তুলে নিয়ে দুইদিন বাংলা বাজার গুম করে রেখে মোবাইল থাকা বিকাশে ৪ হাজার টাকাসহ আমাকে মারে ও হত্যার হুমকি দিয়ে বিভিন্ন প্রকার ভিডিও করে ছেড়ে দেয়। এতে সে সংকুচিত হয়ে কারো কাছে স্বীকার করেন না বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে ঐ কলেজের সিভিল বিভাগের চীফ ইন্সট্রাক্টর বেল্লাল নাফিজের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ছাত্রদের কাছ থেকে ঘটনা শুনে তিনি ঘটনা স্থলে যান এবং উত্তেজিত তানিমের সহপাঠীদের শান্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়ে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। এ ছাড়াও তিনি বলেন, এটা সত্যি দঃখজনক। নিরাপদে কলেজে ছাত্র-ছাত্রীরা আসতে নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এই শিক্ষক।
এ বিষয়ে মেহেরাবের বাবা লোকমানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমার ছেলে সকালে বের হয়েছে এখনো বাসায় আসেনি। ফোন করছি তা বন্ধ রয়েছে। বাসায় আসুক আমি জিজ্ঞেস করে সত্যতা পেলে বিচার করবো।
এ বিষয়ে এখনো মামলা হয়নি। তবে ভোলা সদর থানার ওসি এনায়েত হোসেন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি; আমরা দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

















