Dhaka , Tuesday, 3 March 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
সিলেট ও শ্রীমঙ্গলে ঝড় ও বজ্রাপাতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।। মানুষকে ভালোবাসেন বলেই তাদের টানে আমেরিকা ছেড়ে দেশের এসে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন- দেলোয়ার মোমেন।। শরীয়তপুরে পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা কালে জনতার হাতে যুবক আটক।। রামগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ আরাফাতের  নিজস্ব অর্থায়নে রাস্তা সংস্কার।। রূপগঞ্জে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ঈদসামগ্রী বিতরণ।। তিতাসের জিয়ারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেনের শিক্ষকতার দুই যুগপূর্তি।। কোম্পানীগঞ্জে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার- স্বামী পলাতক।। নরসিংদী বৃষ্টির কারনে পশুর হাটে বেচা কেনা কম।। মায়ের সামনে পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু।। ঈদুল আযহা উপলক্ষে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে টানা ৮ দিন আমদানি রপ্তানি বন্ধ।। শেখ কামাল আইটি ট্রেনিংয়ে সারাদেশের মধ্যে প্রথম হয়েছে রাজাপুরের মশিউর রহমান তামিম।। সুন্দরগঞ্জের দহবন্দ ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরণ।। কুমিল্লা পিটিআই কর্তৃক সততা নৈতিকতা ও শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলেন- তানজুরুন নাহার।। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সদরপুরে বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর শুভ সূচনা।। সড়কতো নয় যেন ধান শুকানোর চাতাল।। তিতাসে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণ অনুষ্ঠিত।। ঈদ উপলক্ষে হিলিতে বিনামূল্যে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসাবে চাল বিতারণ।।  পাবনায় হত্যায় মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।। আই-ইইই ইবি স্টুডেন্ট ব্রাঞ্চের সভাপতি পিয়াস সম্পাদক ইকবাল।। পাবনা জেলা স্কুল জাতীয় পর্যায়ে কুইজ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয়।। সিলেটে বৃস্পতিবার সকাল থেকে ভারী বৃষ্টিপাত-ফের জলাবদ্ধতার শঙ্কা।। জনপ্রিয়তা ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রফিক আমার নামে মিথ্যাচার চালাচ্ছে- আবুল বাশার  বাদশা।। নিখোঁজের দুদিন পর মাদরাসা ছাত্রের মরদেহ মিলল ঘাটলার নিচে।। ঝালকাঠিতে হত্যা মামলায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন।। সুন্দরগঞ্জে পশুর হাট নিয়ে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে ৩ রাউন্ড গুলি বিনিময়- পুলিশসহ আহত ১০।। নোয়াখালীতে পানিতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু।। পাবনায় শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নছিমন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ২ জন নিহত আহত -৭ জন।। রূপগঞ্জ কাঞ্চন পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী রফিক সমর্থকদের উপর হামলা।। ৩৬ দিন পর যুবকের লাশ উত্তোলন- ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের।। শিবচরে আগুনে ১৩ গরু মারা গেছে।।

জগন্নাথপুরে ১৫৫ কোটি টাকার স্বপ্নের রাণীগঞ্জ সেতু চালু হতে পারে জুনে

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 10:36:56 pm, Wednesday, 27 April 2022
  • 170 বার পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুরে ১৫৫ কোটি টাকার স্বপ্নের রাণীগঞ্জ সেতু চালু হতে পারে জুনে

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি।।

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কুশিয়ারা নদীর উপর ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আড়াই কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে স্বপ্নের রাণীগঞ্জ সেতু নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী জুনে নব-নির্মিত সেতুটি চালু হতে পারে। এ নিয়ে স্থানীয় জনমনে কৌতুহলের শেষ নেই। সর্বত্র বিরাজ করছে আনন্দ-উল্লাস।
স্থানীয় একাধিক প্রবীণ মুরব্বিরা জানান, কুশিয়ারা নদীটি কারো জন্য আশির্বাদ। আবার কারো জন্য অভিশাপ। নদীটি পানি ও মাছের চাহিদা পূরণের মাধ্যমে অনেককে করেছে স্বাবলম্বী। আবার নদী গর্ভে চলে গেছে অনেক বসত বাড়ি, স্কুল ও রাস্তাঘাট। কেউ হয়েছেন ধনী। আবার কেউ হারিয়েছেন সর্বস্ব। এ নদীটির কারণে যুগযুগ ধরে রয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন। এতে নদীর দুই পাড়ের মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। যদিও ফেরি ও খেয়া নৌকাযোগে চলাচল করছেন মানুষ। তাই জনভোগান্তি লাঘবে বিগত ১৯৯৬ সালে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত জাতীয় নেতা আলহাজ আবদুস সামাদ আজাদের প্রচেষ্টায় শান্তিগঞ্জ উপজেলার ডাবর পয়েন্ট থেকে জগন্নাথপুর হয়ে আউশকান্দি পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ করলেও কুশিয়ারা নদীর উপর রাণীগঞ্জ সেতুটি করতে পারেননি। এর মধ্যে ২০০১ সালে সরকার পরিবর্তনের কারণে থমকে যায় এসব উন্নয়ন কাজ। সুনামগঞ্জ থেকে জগন্নাথপুর হয়ে কম সময়ে সহজে ঢাকা চলাচলের স্বপ্ন দেখালেও বাস্তবায়ন করতে পারেনি বরেন্য এ রাজনীতিবিদ।
অবশেষে প্রয়াত জাতীয় নেতা আবদুস সামাদ আজাদের অসমাপ্ত কাজ দ্রæত বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেন বর্তমান পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। মানুষের ভেঙে যাওয়া স্বপ্ন আবার উজ্জীবিত করেন সজ্জন এ রাজনীতিবিদ। ২০০৮ সালে আবার আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতায় ও পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের প্রাণপন প্রচেষ্টায় বিগত ২০১৬ সালের আগষ্টে ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সেই স্বপ্নের রাণীগঞ্জ সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এতে শুধু সেতু নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৯১ কোটি টাকা। সেতু নির্মাণ কাজ পায় দেশের নামকরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমএম বিল্ডার্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড। বাকি ব্যয় ধরা হয়, এপ্রোচ সড়ক, টোলপ্লাজা, কালভার্ট ও স্থানীয় ইটাখলা নদীর উপর আরেকটি ছোট সেতু নির্মাণে। এরপর দ্রæত চলে সেতু নির্মাণ কাজ। দ্রæত ও মানসম্মত কাজ নিয়ে সর্বদা খোঁজ-খবর রাখেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। তদারকি বাড়তে থাকে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের। শুধু টাকার জন্য নয়, সুনামের জন্য কম সময়ের মধ্যে টেকসই উন্নতমানের কাজ উপহার দিতে দিনরাত কাজ চালিয়ে যায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অবশেষে সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় আশার আলো জেগেছে। চলতি ২০২২ সালে এসে প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে রাণীগঞ্জ সেতু নির্মাণ কাজ। এর মধ্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের প্রচেষ্টায় শান্তিগঞ্জ উপজেলার ডাবর পয়েন্ট থেকে জগন্নাথপুর হয়ে নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কের পুণনির্মাণ কাজ শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে নির্মাণাধীন রাণীগঞ্জ সেতুর নিচে থাকা ফেরির মাধ্যমে সুনামগঞ্জ থেকে জগন্নাথপুর হয়ে ঢাকায় যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল করছে। তবে সেতুটি চালু হলে ইকোনোমিক জোন হতে পারে রাণীগঞ্জ এলাকা। বাংলাদেশের সাথে সুনামগঞ্জ, জগন্নাথপুর, দিরাই সহ অত্র অঞ্চলের নতুন যোগাযোগের মাইলফলক উন্মোচিত হবে। রাজধানী ঢাকার সাথে বাড়বে ব্যবসায়ীক সম্পর্ক। উন্নয়নের মাপকাঠিতে আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে পিছিয়ে থাকা অত্র অঞ্চল। তাই জীবদ্দশায় আছলম আলী সহ অনেক প্রবীণ মুরব্বি রাণীগঞ্জ সেতু দিয়ে চলাচলের স্বপ্ন দেখছেন। তাদের সেই স্বপ্ন পুরণের সময় এসে গেছে। চলতি ২০২২ সালের আগামী জুনে সেতুটি চলাচলের উদ্বোধন হতে পারে। ২৭ এপ্রিল বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, রাণীগঞ্জ সেতুর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমএম বিল্ডার্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক হারুন অর রশিদ বলেন, ৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭০২ মিটার দৈর্ঘ্যের রাণীগঞ্জ সেতুর নির্মাণ কাজ ৯৬ ভাগ শেষ হয়েছে। সেতুর মধ্যস্থানে আরো ৪ ভাগ কাজ বাকি রয়েছে। আশা করছি, আগামী জুনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, সেতুর ডিজাইনগত জটিলতা ও করোনার কারণে কাজ অনেকটা পিছিয়েছে। তা না হলে আরো আগেই শেষ হয়ে যেতো। এর মধ্যে রড, সিমেন্ট, পাথর সহ কচামালের দাম বৃদ্ধি পেলেও আমাদের কাজ থামেনি। আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কাজ চালিয়ে গেছি।
জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু বলেন, বাংলাদেশের স্বপ্নের সেতু যমুনা। আর আমাদের স্বপ্নের সেতু রাণীগঞ্জ। এটি হচ্ছে সিলেট বিভাগের সব চেয়ে বড় সেতু। এ সেতুটি চালু হলে বৃহত্তর সুনামগঞ্জবাসী উপকৃত হবেন। এ সেতুটি নির্মাণ করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সেতুমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাই। এখন আমাদের একটাই দাবি আগামী জুনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেন আমাদের স্বপ্নের সেতুটি উদ্বোধন করেন। রাণীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ছদরুল ইসলাম জানান, এটি আমাদের স্বপ্নের সেতু। সেতুটি নির্মাণ হওয়ায় ঢাকার সাথে দুরত্ব অনেক কমে এসেছে এবং দেশের সাথে যোগাযোগের সেতুবন্ধন হয়েছে। তাই সেতুটি নির্মাণ করায় প্রধানমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী সহ সকলকে রাণীগঞ্জ ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপগঞ্জে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রীর নির্দেশে নির্মিত চার সড়কের উদ্বোধন।।

পেকুয়ায় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে প্লাবিত,২ শত পরিবার পানিবন্দী।।

সিলেট ও শ্রীমঙ্গলে ঝড় ও বজ্রাপাতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।।

জগন্নাথপুরে ১৫৫ কোটি টাকার স্বপ্নের রাণীগঞ্জ সেতু চালু হতে পারে জুনে

আপডেট সময় : 10:36:56 pm, Wednesday, 27 April 2022

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি।।

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কুশিয়ারা নদীর উপর ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে আড়াই কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে স্বপ্নের রাণীগঞ্জ সেতু নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী জুনে নব-নির্মিত সেতুটি চালু হতে পারে। এ নিয়ে স্থানীয় জনমনে কৌতুহলের শেষ নেই। সর্বত্র বিরাজ করছে আনন্দ-উল্লাস।
স্থানীয় একাধিক প্রবীণ মুরব্বিরা জানান, কুশিয়ারা নদীটি কারো জন্য আশির্বাদ। আবার কারো জন্য অভিশাপ। নদীটি পানি ও মাছের চাহিদা পূরণের মাধ্যমে অনেককে করেছে স্বাবলম্বী। আবার নদী গর্ভে চলে গেছে অনেক বসত বাড়ি, স্কুল ও রাস্তাঘাট। কেউ হয়েছেন ধনী। আবার কেউ হারিয়েছেন সর্বস্ব। এ নদীটির কারণে যুগযুগ ধরে রয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন। এতে নদীর দুই পাড়ের মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। যদিও ফেরি ও খেয়া নৌকাযোগে চলাচল করছেন মানুষ। তাই জনভোগান্তি লাঘবে বিগত ১৯৯৬ সালে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত জাতীয় নেতা আলহাজ আবদুস সামাদ আজাদের প্রচেষ্টায় শান্তিগঞ্জ উপজেলার ডাবর পয়েন্ট থেকে জগন্নাথপুর হয়ে আউশকান্দি পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ করলেও কুশিয়ারা নদীর উপর রাণীগঞ্জ সেতুটি করতে পারেননি। এর মধ্যে ২০০১ সালে সরকার পরিবর্তনের কারণে থমকে যায় এসব উন্নয়ন কাজ। সুনামগঞ্জ থেকে জগন্নাথপুর হয়ে কম সময়ে সহজে ঢাকা চলাচলের স্বপ্ন দেখালেও বাস্তবায়ন করতে পারেনি বরেন্য এ রাজনীতিবিদ।
অবশেষে প্রয়াত জাতীয় নেতা আবদুস সামাদ আজাদের অসমাপ্ত কাজ দ্রæত বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেন বর্তমান পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। মানুষের ভেঙে যাওয়া স্বপ্ন আবার উজ্জীবিত করেন সজ্জন এ রাজনীতিবিদ। ২০০৮ সালে আবার আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতায় ও পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের প্রাণপন প্রচেষ্টায় বিগত ২০১৬ সালের আগষ্টে ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সেই স্বপ্নের রাণীগঞ্জ সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এতে শুধু সেতু নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৯১ কোটি টাকা। সেতু নির্মাণ কাজ পায় দেশের নামকরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমএম বিল্ডার্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড। বাকি ব্যয় ধরা হয়, এপ্রোচ সড়ক, টোলপ্লাজা, কালভার্ট ও স্থানীয় ইটাখলা নদীর উপর আরেকটি ছোট সেতু নির্মাণে। এরপর দ্রæত চলে সেতু নির্মাণ কাজ। দ্রæত ও মানসম্মত কাজ নিয়ে সর্বদা খোঁজ-খবর রাখেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। তদারকি বাড়তে থাকে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের। শুধু টাকার জন্য নয়, সুনামের জন্য কম সময়ের মধ্যে টেকসই উন্নতমানের কাজ উপহার দিতে দিনরাত কাজ চালিয়ে যায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অবশেষে সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় আশার আলো জেগেছে। চলতি ২০২২ সালে এসে প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে রাণীগঞ্জ সেতু নির্মাণ কাজ। এর মধ্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের প্রচেষ্টায় শান্তিগঞ্জ উপজেলার ডাবর পয়েন্ট থেকে জগন্নাথপুর হয়ে নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কের পুণনির্মাণ কাজ শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে নির্মাণাধীন রাণীগঞ্জ সেতুর নিচে থাকা ফেরির মাধ্যমে সুনামগঞ্জ থেকে জগন্নাথপুর হয়ে ঢাকায় যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল করছে। তবে সেতুটি চালু হলে ইকোনোমিক জোন হতে পারে রাণীগঞ্জ এলাকা। বাংলাদেশের সাথে সুনামগঞ্জ, জগন্নাথপুর, দিরাই সহ অত্র অঞ্চলের নতুন যোগাযোগের মাইলফলক উন্মোচিত হবে। রাজধানী ঢাকার সাথে বাড়বে ব্যবসায়ীক সম্পর্ক। উন্নয়নের মাপকাঠিতে আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে পিছিয়ে থাকা অত্র অঞ্চল। তাই জীবদ্দশায় আছলম আলী সহ অনেক প্রবীণ মুরব্বি রাণীগঞ্জ সেতু দিয়ে চলাচলের স্বপ্ন দেখছেন। তাদের সেই স্বপ্ন পুরণের সময় এসে গেছে। চলতি ২০২২ সালের আগামী জুনে সেতুটি চলাচলের উদ্বোধন হতে পারে। ২৭ এপ্রিল বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, রাণীগঞ্জ সেতুর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমএম বিল্ডার্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক হারুন অর রশিদ বলেন, ৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭০২ মিটার দৈর্ঘ্যের রাণীগঞ্জ সেতুর নির্মাণ কাজ ৯৬ ভাগ শেষ হয়েছে। সেতুর মধ্যস্থানে আরো ৪ ভাগ কাজ বাকি রয়েছে। আশা করছি, আগামী জুনের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, সেতুর ডিজাইনগত জটিলতা ও করোনার কারণে কাজ অনেকটা পিছিয়েছে। তা না হলে আরো আগেই শেষ হয়ে যেতো। এর মধ্যে রড, সিমেন্ট, পাথর সহ কচামালের দাম বৃদ্ধি পেলেও আমাদের কাজ থামেনি। আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কাজ চালিয়ে গেছি।
জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু বলেন, বাংলাদেশের স্বপ্নের সেতু যমুনা। আর আমাদের স্বপ্নের সেতু রাণীগঞ্জ। এটি হচ্ছে সিলেট বিভাগের সব চেয়ে বড় সেতু। এ সেতুটি চালু হলে বৃহত্তর সুনামগঞ্জবাসী উপকৃত হবেন। এ সেতুটি নির্মাণ করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সেতুমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাই। এখন আমাদের একটাই দাবি আগামী জুনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেন আমাদের স্বপ্নের সেতুটি উদ্বোধন করেন। রাণীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ছদরুল ইসলাম জানান, এটি আমাদের স্বপ্নের সেতু। সেতুটি নির্মাণ হওয়ায় ঢাকার সাথে দুরত্ব অনেক কমে এসেছে এবং দেশের সাথে যোগাযোগের সেতুবন্ধন হয়েছে। তাই সেতুটি নির্মাণ করায় প্রধানমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী সহ সকলকে রাণীগঞ্জ ইউনিয়নবাসীর পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।