Dhaka , Tuesday, 3 March 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
সিলেট ও শ্রীমঙ্গলে ঝড় ও বজ্রাপাতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।। মানুষকে ভালোবাসেন বলেই তাদের টানে আমেরিকা ছেড়ে দেশের এসে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন- দেলোয়ার মোমেন।। শরীয়তপুরে পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা কালে জনতার হাতে যুবক আটক।। রামগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ আরাফাতের  নিজস্ব অর্থায়নে রাস্তা সংস্কার।। রূপগঞ্জে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ঈদসামগ্রী বিতরণ।। তিতাসের জিয়ারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেনের শিক্ষকতার দুই যুগপূর্তি।। কোম্পানীগঞ্জে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার- স্বামী পলাতক।। নরসিংদী বৃষ্টির কারনে পশুর হাটে বেচা কেনা কম।। মায়ের সামনে পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু।। ঈদুল আযহা উপলক্ষে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে টানা ৮ দিন আমদানি রপ্তানি বন্ধ।। শেখ কামাল আইটি ট্রেনিংয়ে সারাদেশের মধ্যে প্রথম হয়েছে রাজাপুরের মশিউর রহমান তামিম।। সুন্দরগঞ্জের দহবন্দ ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরণ।। কুমিল্লা পিটিআই কর্তৃক সততা নৈতিকতা ও শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলেন- তানজুরুন নাহার।। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সদরপুরে বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর শুভ সূচনা।। সড়কতো নয় যেন ধান শুকানোর চাতাল।। তিতাসে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণ অনুষ্ঠিত।। ঈদ উপলক্ষে হিলিতে বিনামূল্যে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসাবে চাল বিতারণ।।  পাবনায় হত্যায় মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।। আই-ইইই ইবি স্টুডেন্ট ব্রাঞ্চের সভাপতি পিয়াস সম্পাদক ইকবাল।। পাবনা জেলা স্কুল জাতীয় পর্যায়ে কুইজ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয়।। সিলেটে বৃস্পতিবার সকাল থেকে ভারী বৃষ্টিপাত-ফের জলাবদ্ধতার শঙ্কা।। জনপ্রিয়তা ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রফিক আমার নামে মিথ্যাচার চালাচ্ছে- আবুল বাশার  বাদশা।। নিখোঁজের দুদিন পর মাদরাসা ছাত্রের মরদেহ মিলল ঘাটলার নিচে।। ঝালকাঠিতে হত্যা মামলায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন।। সুন্দরগঞ্জে পশুর হাট নিয়ে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে ৩ রাউন্ড গুলি বিনিময়- পুলিশসহ আহত ১০।। নোয়াখালীতে পানিতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু।। পাবনায় শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নছিমন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ২ জন নিহত আহত -৭ জন।। রূপগঞ্জ কাঞ্চন পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী রফিক সমর্থকদের উপর হামলা।। ৩৬ দিন পর যুবকের লাশ উত্তোলন- ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের।। শিবচরে আগুনে ১৩ গরু মারা গেছে।।

জগন্নাথপুরে উজাই মারা উৎসবে হাওরে মানুষের ঢল

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 07:17:10 pm, Monday, 16 May 2022
  • 176 বার পড়া হয়েছে

জগন্নাথপুরে উজাই মারা উৎসবে হাওরে মানুষের ঢল নিকেশ বৈদ্য,জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে উজাই মারা উৎসবে হাওরে মানুষের ঢল নেমেছে। দেশীয় প্রজাতির মাছ ধরতে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন সৌখিন শিকারিরা। উপজেলার সর্বত্র পড়েছে উজাই মারার ধুম। যে যেভাবে পারছেন মাছ ধরতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। রীতিমতো চলছে উজাই মারা প্রতিযোগিতা। এ যেন গ্রাম বাংলার চিরচেনা রূপ। যার ঐতিহ্য যুগযুগ ধরে লালন করে চলেছেন গ্রাম-গঞ্জের মানুষ। গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ঘূর্নিঝড় অশনির প্রভাবে জগন্নাথপুরে টানা বৃষ্টিপাত চলছে। মাঝে মধ্যে থামলেও কিছুক্ষণ পর আবার বৃষ্টির সাথে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রপাত হচ্ছে। এতে আশঙ্কাজনক ভাবে বাড়ছে নদ-নদীর পানি। এর মধ্যে হাওরে ধান কাটা শেষ হওয়ায় ১৪ মে শনিবার জগন্নাথপুর উপজেলার সব থেকে বড় নলুয়া হাওরের কয়েকটি ¯øুইচগেইট ছেড়ে দেন প্রশাসন। ফলে নলুয়ার হাওর সহ অন্যান্য ছোট হাওরে ডুকছে পানি। এতে মাছ ধরতে তৎপর হয়ে উঠেন সৌখিন শিকারিরা। যে কারণে গত ২ দিন ধরে উপজেলার সর্বত্র উজাই মারার ধুম পড়েছে। ১৫ মে রোববার হাওরে উজাই মারতে আসা সৌখিন শিকারি সহ স্থানীয়রা জানান, আকাশে ঘনঘন বজ্রপাত হলে মা মাছ ডিম ছাড়তে দিশেহারা হয়ে গভীর পানি থেকে অল্প পানিতে চলে আসে। যেমন নদীর আশপাশ ও হাওরের অল্প পানিতে এসে ভিড় জমায়। এ সুযোগের অপেক্ষায় ওঁৎ পেতে থাকেন শিকারিরা। এ সময় ফলো, জাল, কুচা সহ বিভিন্ন ভাবে মাছ মারা হয়। এভাবে মাছ ধরাকে স্থানীয় ভাষায় “উজাই মারা” বলে পরিচিত। স্থানীয় একাধিক মানুষ জানান, শনিবার থেকে উজাই মারার ধুম পড়েছে। রোববার পর্যন্ত উজাই মারতে হাওর ও নদীর আঙ্গিনায় শতশত সৌখিন শিকারি অবস্থান করছেন। অনেকে টানা বৃষ্টিপাত উপেক্ষা করে হাওরে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। বৃষ্টি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে শিকারিদের সাথে রয়েছে বাঁশের ছাতা, ভারি পলিথিন, সাধারণ ছাতা ও টর্চলাইট। সাথে থাকে অল্প শুকনো খাবার। হাওর ও নদীর আঙ্গিনায় গিয়ে পানি চলাচলের গতি দেখে শিকারের স্থান পছন্দ করেন শিকারিরা। স্থান পছন্দ হলে একজন থেকে আরেকজন দুরত্বে সারিবদ্ধ ভাবে অবস্থান নিয়ে অত্যান্ত সুকৌশলে মাছ শিকার করেন। এবার উজাই মারায় ধরা পড়ছে বোয়াল, গনিয়া সহ ছোট বড় মাছ। যারা কাঙ্খিত মাছ ধরতে পারেন, তারা বেজায় খুশি হন। আবার যারা মাছ ধরতে না পারেন, তারা নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরেন। যদিও দিনরাত চলছে উজাই মারা উৎসব। এতে ছোট বড় সব মানুষের ঢল নেমেছ হাওর ও নদীর আঙ্গিনায়। চলছে রীতিমতো প্রতিযোগিতা। নলুয়ার হাওর পাড়ের দাস নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য রণধীর কান্তি দাস রান্টু বলেন, প্রশাসন ¯øুইচগেইট ছেড়ে দেয়ার পর চারদিকে উজাই মারার ধুম পড়েছে। বেতাউকা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য জুয়েল মিয়া বলেন, উজাই মারতে হাওর ও নদীর আঙ্গিনায় সৌখিন শিকারিদের মধ্যে রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলছে। নারিকেলতলা গ্রামের বাসিন্দা ও সৌখিন শিকারি আবদুল মুকিত জানান, এবার উজাই মারায় বোয়াল, গনিয়া সহ দেশীয় মাছ পাওয়া যাচ্ছে। কলকলিয়া ইউনিয়ন এলাকার বাসিন্দা মাওলানা মতিউর রহমান তুলে ধরেছেন উজাই মারার চিত্র। এছাড়া গোলাভর্তি ধান রেখে মনের আনন্দে উজাই মারায় মেতে উঠেছেন কৃষকরা। প্রকৃতিও যেন উজাই মারার পক্ষে। থেমে থেমে চলছে বজ্র সহ বৃষ্টিপাত। নদী ও হাওর ভরে বাড়ির আঙ্গিনায় চলে এসেছে পানি। সব মিলিয়ে জগন্নাথপুরে চলছে উজাই মারার উৎসব।

নিকেশ বৈদ্য,জগন্নাথপুর সুনামগঞ্জ।।

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে উজাই মারা উৎসবে হাওরে মানুষের ঢল নেমেছে। দেশীয় প্রজাতির মাছ ধরতে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন সৌখিন শিকারিরা। উপজেলার সর্বত্র পড়েছে উজাই মারার ধুম। যে যেভাবে পারছেন মাছ ধরতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। রীতিমতো চলছে উজাই মারা প্রতিযোগিতা। এ যেন গ্রাম বাংলার চিরচেনা রূপ। যার ঐতিহ্য যুগযুগ ধরে লালন করে চলেছেন গ্রাম-গঞ্জের মানুষ।
গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ঘূর্নিঝড় অশনির প্রভাবে জগন্নাথপুরে টানা বৃষ্টিপাত চলছে। মাঝে মধ্যে থামলেও কিছুক্ষণ পর আবার বৃষ্টির সাথে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রপাত হচ্ছে। এতে আশঙ্কাজনক ভাবে বাড়ছে নদ-নদীর পানি। এর মধ্যে হাওরে ধান কাটা শেষ হওয়ায় ১৪ মে শনিবার জগন্নাথপুর উপজেলার সব থেকে বড় নলুয়া হাওরের কয়েকটি ¯øুইচগেইট ছেড়ে দেন প্রশাসন। ফলে নলুয়ার হাওর সহ অন্যান্য ছোট হাওরে ডুকছে পানি। এতে মাছ ধরতে তৎপর হয়ে উঠেন সৌখিন শিকারিরা। যে কারণে গত ২ দিন ধরে উপজেলার সর্বত্র উজাই মারার ধুম পড়েছে।
১৫ মে রোববার হাওরে উজাই মারতে আসা সৌখিন শিকারি সহ স্থানীয়রা জানান, আকাশে ঘনঘন বজ্রপাত হলে মা মাছ ডিম ছাড়তে দিশেহারা হয়ে গভীর পানি থেকে অল্প পানিতে চলে আসে। যেমন নদীর আশপাশ ও হাওরের অল্প পানিতে এসে ভিড় জমায়। এ সুযোগের অপেক্ষায় ওঁৎ পেতে থাকেন শিকারিরা। এ সময় ফলো, জাল, কুচা সহ বিভিন্ন ভাবে মাছ মারা হয়। এভাবে মাছ ধরাকে স্থানীয় ভাষায় “উজাই মারা” বলে পরিচিত।
স্থানীয় একাধিক মানুষ জানান, শনিবার থেকে উজাই মারার ধুম পড়েছে। রোববার পর্যন্ত উজাই মারতে হাওর ও নদীর আঙ্গিনায় শতশত সৌখিন শিকারি অবস্থান করছেন। অনেকে টানা বৃষ্টিপাত উপেক্ষা করে হাওরে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। বৃষ্টি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে শিকারিদের সাথে রয়েছে বাঁশের ছাতা, ভারি পলিথিন, সাধারণ ছাতা ও টর্চলাইট। সাথে থাকে অল্প শুকনো খাবার। হাওর ও নদীর আঙ্গিনায় গিয়ে পানি চলাচলের গতি দেখে শিকারের স্থান পছন্দ করেন শিকারিরা। স্থান পছন্দ হলে একজন থেকে আরেকজন দুরত্বে সারিবদ্ধ ভাবে অবস্থান নিয়ে অত্যান্ত সুকৌশলে মাছ শিকার করেন। এবার উজাই মারায় ধরা পড়ছে বোয়াল, গনিয়া সহ ছোট বড় মাছ। যারা কাঙ্খিত মাছ ধরতে পারেন, তারা বেজায় খুশি হন। আবার যারা মাছ ধরতে না পারেন, তারা নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরেন। যদিও দিনরাত চলছে উজাই মারা উৎসব। এতে ছোট বড় সব মানুষের ঢল নেমেছ হাওর ও নদীর আঙ্গিনায়। চলছে রীতিমতো প্রতিযোগিতা।
নলুয়ার হাওর পাড়ের দাস নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য রণধীর কান্তি দাস রান্টু বলেন, প্রশাসন ¯øুইচগেইট ছেড়ে দেয়ার পর চারদিকে উজাই মারার ধুম পড়েছে। বেতাউকা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য জুয়েল মিয়া বলেন, উজাই মারতে হাওর ও নদীর আঙ্গিনায় সৌখিন শিকারিদের মধ্যে রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলছে। নারিকেলতলা গ্রামের বাসিন্দা ও সৌখিন শিকারি আবদুল মুকিত জানান, এবার উজাই মারায় বোয়াল, গনিয়া সহ দেশীয় মাছ পাওয়া যাচ্ছে। কলকলিয়া ইউনিয়ন এলাকার বাসিন্দা মাওলানা মতিউর রহমান তুলে ধরেছেন উজাই মারার চিত্র। এছাড়া গোলাভর্তি ধান রেখে মনের আনন্দে উজাই মারায় মেতে উঠেছেন কৃষকরা। প্রকৃতিও যেন উজাই মারার পক্ষে। থেমে থেমে চলছে বজ্র সহ বৃষ্টিপাত। নদী ও হাওর ভরে বাড়ির আঙ্গিনায় চলে এসেছে পানি। সব মিলিয়ে জগন্নাথপুরে চলছে উজাই মারার উৎসব।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপগঞ্জে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রীর নির্দেশে নির্মিত চার সড়কের উদ্বোধন।।

পেকুয়ায় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে প্লাবিত,২ শত পরিবার পানিবন্দী।।

সিলেট ও শ্রীমঙ্গলে ঝড় ও বজ্রাপাতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।।

জগন্নাথপুরে উজাই মারা উৎসবে হাওরে মানুষের ঢল

আপডেট সময় : 07:17:10 pm, Monday, 16 May 2022

নিকেশ বৈদ্য,জগন্নাথপুর সুনামগঞ্জ।।

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে উজাই মারা উৎসবে হাওরে মানুষের ঢল নেমেছে। দেশীয় প্রজাতির মাছ ধরতে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন সৌখিন শিকারিরা। উপজেলার সর্বত্র পড়েছে উজাই মারার ধুম। যে যেভাবে পারছেন মাছ ধরতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। রীতিমতো চলছে উজাই মারা প্রতিযোগিতা। এ যেন গ্রাম বাংলার চিরচেনা রূপ। যার ঐতিহ্য যুগযুগ ধরে লালন করে চলেছেন গ্রাম-গঞ্জের মানুষ।
গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ঘূর্নিঝড় অশনির প্রভাবে জগন্নাথপুরে টানা বৃষ্টিপাত চলছে। মাঝে মধ্যে থামলেও কিছুক্ষণ পর আবার বৃষ্টির সাথে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রপাত হচ্ছে। এতে আশঙ্কাজনক ভাবে বাড়ছে নদ-নদীর পানি। এর মধ্যে হাওরে ধান কাটা শেষ হওয়ায় ১৪ মে শনিবার জগন্নাথপুর উপজেলার সব থেকে বড় নলুয়া হাওরের কয়েকটি ¯øুইচগেইট ছেড়ে দেন প্রশাসন। ফলে নলুয়ার হাওর সহ অন্যান্য ছোট হাওরে ডুকছে পানি। এতে মাছ ধরতে তৎপর হয়ে উঠেন সৌখিন শিকারিরা। যে কারণে গত ২ দিন ধরে উপজেলার সর্বত্র উজাই মারার ধুম পড়েছে।
১৫ মে রোববার হাওরে উজাই মারতে আসা সৌখিন শিকারি সহ স্থানীয়রা জানান, আকাশে ঘনঘন বজ্রপাত হলে মা মাছ ডিম ছাড়তে দিশেহারা হয়ে গভীর পানি থেকে অল্প পানিতে চলে আসে। যেমন নদীর আশপাশ ও হাওরের অল্প পানিতে এসে ভিড় জমায়। এ সুযোগের অপেক্ষায় ওঁৎ পেতে থাকেন শিকারিরা। এ সময় ফলো, জাল, কুচা সহ বিভিন্ন ভাবে মাছ মারা হয়। এভাবে মাছ ধরাকে স্থানীয় ভাষায় “উজাই মারা” বলে পরিচিত।
স্থানীয় একাধিক মানুষ জানান, শনিবার থেকে উজাই মারার ধুম পড়েছে। রোববার পর্যন্ত উজাই মারতে হাওর ও নদীর আঙ্গিনায় শতশত সৌখিন শিকারি অবস্থান করছেন। অনেকে টানা বৃষ্টিপাত উপেক্ষা করে হাওরে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। বৃষ্টি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে শিকারিদের সাথে রয়েছে বাঁশের ছাতা, ভারি পলিথিন, সাধারণ ছাতা ও টর্চলাইট। সাথে থাকে অল্প শুকনো খাবার। হাওর ও নদীর আঙ্গিনায় গিয়ে পানি চলাচলের গতি দেখে শিকারের স্থান পছন্দ করেন শিকারিরা। স্থান পছন্দ হলে একজন থেকে আরেকজন দুরত্বে সারিবদ্ধ ভাবে অবস্থান নিয়ে অত্যান্ত সুকৌশলে মাছ শিকার করেন। এবার উজাই মারায় ধরা পড়ছে বোয়াল, গনিয়া সহ ছোট বড় মাছ। যারা কাঙ্খিত মাছ ধরতে পারেন, তারা বেজায় খুশি হন। আবার যারা মাছ ধরতে না পারেন, তারা নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরেন। যদিও দিনরাত চলছে উজাই মারা উৎসব। এতে ছোট বড় সব মানুষের ঢল নেমেছ হাওর ও নদীর আঙ্গিনায়। চলছে রীতিমতো প্রতিযোগিতা।
নলুয়ার হাওর পাড়ের দাস নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য রণধীর কান্তি দাস রান্টু বলেন, প্রশাসন ¯øুইচগেইট ছেড়ে দেয়ার পর চারদিকে উজাই মারার ধুম পড়েছে। বেতাউকা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য জুয়েল মিয়া বলেন, উজাই মারতে হাওর ও নদীর আঙ্গিনায় সৌখিন শিকারিদের মধ্যে রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলছে। নারিকেলতলা গ্রামের বাসিন্দা ও সৌখিন শিকারি আবদুল মুকিত জানান, এবার উজাই মারায় বোয়াল, গনিয়া সহ দেশীয় মাছ পাওয়া যাচ্ছে। কলকলিয়া ইউনিয়ন এলাকার বাসিন্দা মাওলানা মতিউর রহমান তুলে ধরেছেন উজাই মারার চিত্র। এছাড়া গোলাভর্তি ধান রেখে মনের আনন্দে উজাই মারায় মেতে উঠেছেন কৃষকরা। প্রকৃতিও যেন উজাই মারার পক্ষে। থেমে থেমে চলছে বজ্র সহ বৃষ্টিপাত। নদী ও হাওর ভরে বাড়ির আঙ্গিনায় চলে এসেছে পানি। সব মিলিয়ে জগন্নাথপুরে চলছে উজাই মারার উৎসব।