Dhaka , Sunday, 26 April 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
সিলেট ও শ্রীমঙ্গলে ঝড় ও বজ্রাপাতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।। মানুষকে ভালোবাসেন বলেই তাদের টানে আমেরিকা ছেড়ে দেশের এসে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন- দেলোয়ার মোমেন।। শরীয়তপুরে পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা কালে জনতার হাতে যুবক আটক।। রামগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ আরাফাতের  নিজস্ব অর্থায়নে রাস্তা সংস্কার।। রূপগঞ্জে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ঈদসামগ্রী বিতরণ।। তিতাসের জিয়ারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেনের শিক্ষকতার দুই যুগপূর্তি।। কোম্পানীগঞ্জে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার- স্বামী পলাতক।। নরসিংদী বৃষ্টির কারনে পশুর হাটে বেচা কেনা কম।। মায়ের সামনে পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু।। ঈদুল আযহা উপলক্ষে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে টানা ৮ দিন আমদানি রপ্তানি বন্ধ।। শেখ কামাল আইটি ট্রেনিংয়ে সারাদেশের মধ্যে প্রথম হয়েছে রাজাপুরের মশিউর রহমান তামিম।। সুন্দরগঞ্জের দহবন্দ ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরণ।। কুমিল্লা পিটিআই কর্তৃক সততা নৈতিকতা ও শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলেন- তানজুরুন নাহার।। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সদরপুরে বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর শুভ সূচনা।। সড়কতো নয় যেন ধান শুকানোর চাতাল।। তিতাসে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণ অনুষ্ঠিত।। ঈদ উপলক্ষে হিলিতে বিনামূল্যে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসাবে চাল বিতারণ।।  পাবনায় হত্যায় মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।। আই-ইইই ইবি স্টুডেন্ট ব্রাঞ্চের সভাপতি পিয়াস সম্পাদক ইকবাল।। পাবনা জেলা স্কুল জাতীয় পর্যায়ে কুইজ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয়।। সিলেটে বৃস্পতিবার সকাল থেকে ভারী বৃষ্টিপাত-ফের জলাবদ্ধতার শঙ্কা।। জনপ্রিয়তা ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রফিক আমার নামে মিথ্যাচার চালাচ্ছে- আবুল বাশার  বাদশা।। নিখোঁজের দুদিন পর মাদরাসা ছাত্রের মরদেহ মিলল ঘাটলার নিচে।। ঝালকাঠিতে হত্যা মামলায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন।। সুন্দরগঞ্জে পশুর হাট নিয়ে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে ৩ রাউন্ড গুলি বিনিময়- পুলিশসহ আহত ১০।। নোয়াখালীতে পানিতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু।। পাবনায় শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নছিমন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ২ জন নিহত আহত -৭ জন।। রূপগঞ্জ কাঞ্চন পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী রফিক সমর্থকদের উপর হামলা।। ৩৬ দিন পর যুবকের লাশ উত্তোলন- ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের।। শিবচরে আগুনে ১৩ গরু মারা গেছে।।

লোকালয়ের ভেতর ব্লাক ফ্লাই প্রকল্প  -দুর্গন্ধে জনজীবন বিপর্যস্ত

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 07:39:15 pm, Friday, 20 May 2022
  • 175 বার পড়া হয়েছে

লোকালয়ের ভেতর ব্লাক ফ্লাই প্রকল্প  -দুর্গন্ধে জনজীবন বিপর্যস্ত

রাজিব আহমেদ নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি।।

নরসিংদীর পলাশে জনবহুল এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে অর্গানিক পোল্ট্রি ফিড তৈরি করার লক্ষ্যে গড়ে তোলা হয়েছে ব্লাক ফ্লাই নামক খামার একটি প্রকল্প। উপজেলার জিনারদী রেলক্রসিংয়ের পাশে এ অর্গানিক ফিডের প্রকল্পটি বেশ কয়েক মাস ধরে চালু করা হয়। খামারে ভেতরের নোংরা, পঁচা খাবার ও হাঁস-মুরগীর নারিভূরির দুর্গন্ধে আশপাশের এলাকার মানুষের বসবাস করা দায় হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, পলাশ উপজেলার জিনারদী রেলক্রসিংয়ের দক্ষিণ পশ্চিম পাশে বিশালাকৃতির একটি খোলামেলা টিনশেড ঘরে আবির নামে এক তরুন এ প্রকল্প চালু করে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পঁচা ও দুর্গন্ধযুক্ত খাবার, পচা ভাত, বিভিন্ন সবজির খোসা, গরু, মহিষ ও হাঁস-মুরগীর নারিভূরি পঁচা থেকে অর্গানিক ফিড তৈরির নাম করে ব্লাক ফ্লাই নামক এক ধরনের পোকা উৎপাদন করে তা বিভিন্ন পোল্ট্রি ও মৎস্য খামারীদের কাছে বিক্রি করে আসছে।
খামারের কাছে পৌঁছতেই এক ধরনের নারিভূরি পঁচা দুর্গন্ধ নাকে ভেসে আসে। কোনরকম নাকে রুমাল পেঁচিয়ে কারখানার ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায় পচনশীল খাবার থেকে পোকার বংশ বিস্তারে চারা উৎপাদনের জন্য বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। ওই বীজতলায় পঁচা ভাত, গরু, মহিষ ও হাঁস-মুরগীর নারিভূরি দিয়ে থরে থরে সাজানো স্থানে লক্ষ লক্ষ পোকা কিলবিল করছে। আর এসকল নারিভুরি পচে এমন দুর্গন্ধ তৈরি হয়েছে যে এর ভিতরে বেশিক্ষণ থাকা দায় হয়ে পড়ে।
প্রকল্পে মালিক আবিরের কাছে জনবহুল এলাকায় এধরনের খামার করার কারণ কি এবং এতে এলাকাবাসীর কি ধরনের সমস্যা হচ্ছে জানাতে চাইলে তিনি বলেন, ‘লোকালয়ের ভেতর এ ধরনের প্রকল্পের কাজ শুরু করাটা আমাদের ভূল হয়েছে। পচনশীল খাবার থেকে আমরা এ পোকাগুলো উৎপন্ন করে প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এগুলো প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ব্লাক ফ্লাই এ রূপান্তরিত হয়। পরে এগুলোকে মশারির ভেতরে আটকে রেখে এ থেকে ডিম সংগ্রহ করে লার্ভা তৈরি করি। সেই লার্ভা গুলো আবার পঁচা ভাত, হাঁস-মুরগীর নারিভূরির উপর ছেড়ে দেই। এই লার্ভাগুলো পচনশীল খাবার খেয়ে একসময় পোল্ট্রি ও মৎস্য খামারের জন্য অর্গানিক ফিডে পরিণত হয়। আর এসকল পোকার বিষ্ঠা থেকে উন্নত মানের অর্গানিক সার তৈরি হয়। বাজারে এ সারের বেশ চাহিদা রয়েছে। পোকা উৎপাদনের প্রসেস দীর্ঘ মেয়াদি হওয়ার এর থেকে ব্যাপক দুর্গন্ধ ছড়ায়। আর এ দুর্গন্ধ মানব স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে স্বীকার করেন তিনি।
অর্গানিক পোল্ট্রি ফিড তৈরির জন্য তার কোন ধরনের ট্রেড লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, মৎস্য অথবা প্রানীসম্পদ অধিদপ্তরের কাগজপত্র আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের এ প্রকল্পটি কোন অধিদপ্তরের আওতাধীন তা আমার জানা নেই তাই আমি কারো অনুমতি না নিয়ে স্বপ্রনোদিত হয়ে প্রকল্পটি চালু করেছি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক এলাকাবাসী বলেন, এ প্রকল্পের দুর্গন্ধে আমাদের এলাকায় থাকা দায় হয়ে পড়েছে। এরফলে এর পাশ্ববর্তী বাড়িঘরে অধিকাংশ শিশু ও বয়স্ক লোকজন শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। তাছাড়া এলাকার অনেকের হাঁস মুরগি মরে গিয়েছে। এব্যাপারে খামার মালিক আবিরকে বহুবার বলা হলেও সে কাউকেই তোয়াক্কা করে না। সে এডভোকেট রিয়াজুল কবির কাউছারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বলে সবাইকে ভয়-ভীতি দেখায় বলেও জানান তারা।
এব্যাপারে জানতে পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানা আফসানা চৌধুরীর কার্যালয়ে গেলে প্রকল্পের বিষয়ে অবগত নন জানান। যেহেতু এ ব্যাপারে অবগত নন তাই তিনি কোন ধরনের বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। সেই সাথে গোপন ক্যামেরায় তার বক্তব্য রেকর্ড হলে তা যেন প্রচার সে ব্যাপারেও হুশিয়ারি দেন তিনি। তবে এব্যাপারে জানতে চাইলে কৃষি কর্মকর্তা, মৎস্য কর্মকর্তা অথবা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।
পলাশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু নাদের সিদ্দিকী বলেন, এ প্রকল্পটি মৎস্য অধিদপ্তরের আওতাধীন তাই এবিষয়ে তারা সবচেয়ে ভালো জানে। তবে আপনারা যেহেতু এসেছেন আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ইউএনও মহোদয়কে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করব।
আবু নাদের সিদ্দিকীর পরামর্শে মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় তার অফিস কক্ষ তালা বদ্ধ রয়েছেন। তার খোঁজ করতে পাশে কক্ষে থাকা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে কম্পিউটারিস্ট জানান জেলা কার্যালয়ে মিটিংয়ে যোগ দিতে তিনি সেখানে গেছেন।
পরে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ শফিকুল আলমের কার্যালয়ে গিয়ে জানা যায় তিনি ছুটিতে রয়েছেন।
মোবাইল ফোনে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পলাশে এ ধরনের একাধিক প্রকল্প চালু থাকলেও জিনারদির জনবহুল এলাকায় এধরনের প্রকল্প চালু আছে বলে তার জানা নেই।
জিনারদী ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম গাজীর বক্তব্য নিতে গিয়ে তাকে তার কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জনস্বাস্থ্যের জন্য এটি ক্ষতিকর হলে প্রকল্পটি বন্ধ করে দিবেন বলে জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপগঞ্জে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রীর নির্দেশে নির্মিত চার সড়কের উদ্বোধন।।

পেকুয়ায় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে প্লাবিত,২ শত পরিবার পানিবন্দী।।

সিলেট ও শ্রীমঙ্গলে ঝড় ও বজ্রাপাতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।।

লোকালয়ের ভেতর ব্লাক ফ্লাই প্রকল্প  -দুর্গন্ধে জনজীবন বিপর্যস্ত

আপডেট সময় : 07:39:15 pm, Friday, 20 May 2022

রাজিব আহমেদ নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি।।

নরসিংদীর পলাশে জনবহুল এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে অর্গানিক পোল্ট্রি ফিড তৈরি করার লক্ষ্যে গড়ে তোলা হয়েছে ব্লাক ফ্লাই নামক খামার একটি প্রকল্প। উপজেলার জিনারদী রেলক্রসিংয়ের পাশে এ অর্গানিক ফিডের প্রকল্পটি বেশ কয়েক মাস ধরে চালু করা হয়। খামারে ভেতরের নোংরা, পঁচা খাবার ও হাঁস-মুরগীর নারিভূরির দুর্গন্ধে আশপাশের এলাকার মানুষের বসবাস করা দায় হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, পলাশ উপজেলার জিনারদী রেলক্রসিংয়ের দক্ষিণ পশ্চিম পাশে বিশালাকৃতির একটি খোলামেলা টিনশেড ঘরে আবির নামে এক তরুন এ প্রকল্প চালু করে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পঁচা ও দুর্গন্ধযুক্ত খাবার, পচা ভাত, বিভিন্ন সবজির খোসা, গরু, মহিষ ও হাঁস-মুরগীর নারিভূরি পঁচা থেকে অর্গানিক ফিড তৈরির নাম করে ব্লাক ফ্লাই নামক এক ধরনের পোকা উৎপাদন করে তা বিভিন্ন পোল্ট্রি ও মৎস্য খামারীদের কাছে বিক্রি করে আসছে।
খামারের কাছে পৌঁছতেই এক ধরনের নারিভূরি পঁচা দুর্গন্ধ নাকে ভেসে আসে। কোনরকম নাকে রুমাল পেঁচিয়ে কারখানার ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায় পচনশীল খাবার থেকে পোকার বংশ বিস্তারে চারা উৎপাদনের জন্য বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। ওই বীজতলায় পঁচা ভাত, গরু, মহিষ ও হাঁস-মুরগীর নারিভূরি দিয়ে থরে থরে সাজানো স্থানে লক্ষ লক্ষ পোকা কিলবিল করছে। আর এসকল নারিভুরি পচে এমন দুর্গন্ধ তৈরি হয়েছে যে এর ভিতরে বেশিক্ষণ থাকা দায় হয়ে পড়ে।
প্রকল্পে মালিক আবিরের কাছে জনবহুল এলাকায় এধরনের খামার করার কারণ কি এবং এতে এলাকাবাসীর কি ধরনের সমস্যা হচ্ছে জানাতে চাইলে তিনি বলেন, ‘লোকালয়ের ভেতর এ ধরনের প্রকল্পের কাজ শুরু করাটা আমাদের ভূল হয়েছে। পচনশীল খাবার থেকে আমরা এ পোকাগুলো উৎপন্ন করে প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এগুলো প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ব্লাক ফ্লাই এ রূপান্তরিত হয়। পরে এগুলোকে মশারির ভেতরে আটকে রেখে এ থেকে ডিম সংগ্রহ করে লার্ভা তৈরি করি। সেই লার্ভা গুলো আবার পঁচা ভাত, হাঁস-মুরগীর নারিভূরির উপর ছেড়ে দেই। এই লার্ভাগুলো পচনশীল খাবার খেয়ে একসময় পোল্ট্রি ও মৎস্য খামারের জন্য অর্গানিক ফিডে পরিণত হয়। আর এসকল পোকার বিষ্ঠা থেকে উন্নত মানের অর্গানিক সার তৈরি হয়। বাজারে এ সারের বেশ চাহিদা রয়েছে। পোকা উৎপাদনের প্রসেস দীর্ঘ মেয়াদি হওয়ার এর থেকে ব্যাপক দুর্গন্ধ ছড়ায়। আর এ দুর্গন্ধ মানব স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে স্বীকার করেন তিনি।
অর্গানিক পোল্ট্রি ফিড তৈরির জন্য তার কোন ধরনের ট্রেড লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, মৎস্য অথবা প্রানীসম্পদ অধিদপ্তরের কাগজপত্র আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের এ প্রকল্পটি কোন অধিদপ্তরের আওতাধীন তা আমার জানা নেই তাই আমি কারো অনুমতি না নিয়ে স্বপ্রনোদিত হয়ে প্রকল্পটি চালু করেছি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক এলাকাবাসী বলেন, এ প্রকল্পের দুর্গন্ধে আমাদের এলাকায় থাকা দায় হয়ে পড়েছে। এরফলে এর পাশ্ববর্তী বাড়িঘরে অধিকাংশ শিশু ও বয়স্ক লোকজন শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। তাছাড়া এলাকার অনেকের হাঁস মুরগি মরে গিয়েছে। এব্যাপারে খামার মালিক আবিরকে বহুবার বলা হলেও সে কাউকেই তোয়াক্কা করে না। সে এডভোকেট রিয়াজুল কবির কাউছারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বলে সবাইকে ভয়-ভীতি দেখায় বলেও জানান তারা।
এব্যাপারে জানতে পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানা আফসানা চৌধুরীর কার্যালয়ে গেলে প্রকল্পের বিষয়ে অবগত নন জানান। যেহেতু এ ব্যাপারে অবগত নন তাই তিনি কোন ধরনের বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। সেই সাথে গোপন ক্যামেরায় তার বক্তব্য রেকর্ড হলে তা যেন প্রচার সে ব্যাপারেও হুশিয়ারি দেন তিনি। তবে এব্যাপারে জানতে চাইলে কৃষি কর্মকর্তা, মৎস্য কর্মকর্তা অথবা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।
পলাশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু নাদের সিদ্দিকী বলেন, এ প্রকল্পটি মৎস্য অধিদপ্তরের আওতাধীন তাই এবিষয়ে তারা সবচেয়ে ভালো জানে। তবে আপনারা যেহেতু এসেছেন আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ইউএনও মহোদয়কে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করব।
আবু নাদের সিদ্দিকীর পরামর্শে মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় তার অফিস কক্ষ তালা বদ্ধ রয়েছেন। তার খোঁজ করতে পাশে কক্ষে থাকা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে কম্পিউটারিস্ট জানান জেলা কার্যালয়ে মিটিংয়ে যোগ দিতে তিনি সেখানে গেছেন।
পরে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ শফিকুল আলমের কার্যালয়ে গিয়ে জানা যায় তিনি ছুটিতে রয়েছেন।
মোবাইল ফোনে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পলাশে এ ধরনের একাধিক প্রকল্প চালু থাকলেও জিনারদির জনবহুল এলাকায় এধরনের প্রকল্প চালু আছে বলে তার জানা নেই।
জিনারদী ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম গাজীর বক্তব্য নিতে গিয়ে তাকে তার কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জনস্বাস্থ্যের জন্য এটি ক্ষতিকর হলে প্রকল্পটি বন্ধ করে দিবেন বলে জানান তিনি।