
নিকেশ বৈদ্য,জগন্নাথপুর সুনামগঞ্জ।।
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে নদ-নদী ও হাওরে পানি বেড়েই চলছে। এতে অনেক রাস্তাঘাট, হাট-বাজার ও ঘরবাড়িতে উঠছে পানি। নি¤œাঞ্চলের পানিবন্দি মানুষ দিশেহারা হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে চারদিকে ছুটাছুটি করছেন। অনেকে উঁচু স্থানে স্কুল ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন। আবার অনেকে নিজ ঘরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবস্থান করছেন। চারদিকে থৈ থৈ পানি। ঘরে চৌকির উপরে বসবাস। এ যেন সংগ্রামী জীবন। বন্যার পানির সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকা। তবুও ছাড়তে চাইছেন না বাড়ি। এমন অনেক দুঃসাহসিক মানুষ রয়েছেন। তবে গবাদিপশু ও গো-খাদ্য নিয়ে তারা বিপাকে পড়েছেন। অনেক স্থানে মৎস্য ফিসারি তলিয়ে চাষ করা মাছ বেরিয়ে গেছে। নিচু এলাকার হাট-বাজারে পানি উঠেছে ও পানিবন্দি মানুষ নৌকাযোগে চলাচল করছেন। সব মিলিয়ে জগন্নাথপুরে বন্যা পরিস্থিতি এখনো অনেকটা স্বাভাবিক রয়েছে। তবে আরো ২ থেকে ৩ ফুট পানি বাড়লেই অবস্থা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এমন আশঙ্কায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন পানিবন্দি মানুষ।
পানিবন্দিদের মধ্যে অনেকে জানান, গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে জগন্নাথপুরে পানি বাড়ছে। ২১ মে শনিবারও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি যতো বাড়ছে, ততোই মানুষ শঙ্কিত হচ্ছেন। জগন্নাথপুর পৌর এলাকার হবিবপুর দক্ষিণপাড়া রাস্তায় পানি উঠেছে। জগন্নাথপুর পৌরসভার মেয়র আক্তার হোসেন বলেন, পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে বাড়িঘরে পানি উঠছে। তবে এখনো আশঙ্কাজনক হয়নি। যদিও পৌর কাউন্সিলর কামাল হোসেন জানান, আমার ওয়ার্ড এলাকার কাচিবিলের পাড় সহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় ২ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। কলকলিয়া ইউনিয়নের একটি গুচ্ছগ্রামে পানি উঠেছে এবং খাশিলা সরকারি স্কুলে একটি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। কলকলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রফিক মিয়া জানান, আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি না হলেও মানুষের বাড়ির উঠানে পানি উঠেছে। পাটলি ইউনিয়নের জগন্নাথপুর-পাটলি সড়কের অনেক অংশ তলিয়ে গেছে। এতে মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। চিলাউড়া-হলদিপুর ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বকুল জানান, আমার ইউনিয়নের মানুষ কোন অবস্থায় আছেন, তা খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে। উপজেলার রাণীগঞ্জ বাজারের একাংশে পানি উঠে যাওয়ায় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের ভোগান্তি বেড়েছে। রাণীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ছদরুল ইসলাম জানান, আমার ইউনিয়নের রাণীনগর গ্রামের ৫০ থেকে ৬০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। আশারকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ূব খান জানান, আমার ইউনিয়নের ৮ থেকে ১০টি গ্রামীণ রাস্তা তলিয়ে গেছে। অনেক মানুষ পানিবন্দি আছেন। এছাড়া পাইলগাঁও ইউনিয়নের নিচু এলাকার রাস্তাঘাট ও বাড়িঘরে পানি উঠেছে বলে স্থানীয়রা জানান। পানি উন্নয়ন বোর্ডের জগন্নাথপুর উপজেলা উপ-সহকারি প্রকৌশলী হাসান গাজী জানান, বন্যার পানি বিপদসীমার উপরে অতিবাহিত হচ্ছে। জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.সাজেদুল ইসলাম জানান, এখনো জগন্নাথপুরে বন্যা পরিস্থিতি ভালো আছে। তবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

















