
মনির হোসেন,বরিশাল ব্যুরো।।
বরিশালে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে সাথে ধাক্কা লেগে নারী ও শিশুসহ ১০ যাত্রী নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উজিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। রবিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে জেলার উজিরপুর উপজেলার বামরাইল নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। উজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আর্শাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি জানান, ঘটনাস্থল থেকে ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ১০ জনের মধ্যে ৭ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন- বরিশালের উজিরপুর উপজেলার মুন্ডুপাশা গ্রামের মনোরঞ্জন শীলের ছে
লে মাধব শীল (৪৫), ঝালকাঠি সদর উপজেলার নেয়ড়ী এলাকার মনির হোসেন হাওলাদারের ছেলে আরাফাত হোসেন হাওলাদার (৯), পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার উত্তর ভেচকি এলাকার কুদ্দুস আকনের ছেলে নজরুল ইসলাম আকন (৩৫), একই উপজেলার ভেচকি এলাকার রাকিব আকনের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (২০), বরগুনার বেতাগী উপজেলার কাজিরবাদ এলাকার মোবারক আলী বেপারীর ছেলে হালিম মিয়া (৩১), ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা থানার সুতারকান্দা এলাকার মৃত আওলাদ আলীর ছেলে সেন্টু মোল্লা (৫০) ও বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার সুন্দরকাঠি গ্রামের মৃত আবুল কাশেম হাওলাদারের ছেলে রমজান হাওলাদার (৩৮) ।

ওসি আরও জানান, বাসটি ঢাকা থেকে ভান্ডারিয়ার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। পথে উজিরপুর উপজেলার বামরাইল পৌঁছালে বাসটি
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে এ ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহায়তায় বাসের মধ্যে আটকে থাকা মরদেহ ও আহতদের উদ্ধার করে উজিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ওসি জানান, মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া অজ্ঞাত নিহতদের পরিচয় সনাক্তের চেষ্টা চলছে।
শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার আবুল কালাম জানান, আহতদের মধ্যে মাধব শীল (৪৫) নামের এক ব্যক্তি শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এছাড়া আহতদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
হাইওয়ে পুলিশের ওসি শেখ বেলাল হোসেন জানান, বাস থেকে ৮ জন, পাশের ডোবা থেকে ১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
বরিশাল ফায়ার সার্ভিস ইউনিট লিডার মোঃ জাহাঙ্গীর বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের গৌরনদী ও উজিরপুরের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বাসটি কেটে যাত্রীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
চালক ঘুমিয়ে পড়ায় দুর্ঘটনা:
বরিশালের উজিরপুরে ১০ জন নিহতের ঘটনায় গাড়ির গতি বেপরোয়া ও চালক ঘুমিয়ে ছিলেন বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক দুলাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে চালক ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এ সময় গাড়ির গতিও ছিল বেপরোয়া। তাছাড়া বাসে যান্ত্রিক ত্রæটিও থাকতে পারে। আর বাসটি ঢাকা রুটের ছিল। এটি ঢাকা থেকে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। দীর্ঘ পথ গাড়ি চালানোর কারণে চালক হয়ত ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন।

















