
পটুয়াখালী ।।
একসময় প্রচলিত ছিল বাবা-মা সন্তানদের বলতো চলো, ভাত খাই।তিনবেলা ভাভ খাওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। ক্ষুধা নিবারণের জন্য ছিলো না পর্যাপ্ত কোনো উপায়। এমন পরিস্থিতিতে সবাই চিন্তা করতো প্রচুর পরিমাণে ভাত খাওয়া দরকার।
সময়ের আবর্তন এ আসলো কিছু টা পরিবর্তন। বাবা-মা সন্তানদের শুধু ভাত খাওয়ানোর কথা ভুলতে শুরু করছে, এখন ভাতের সাথে ডিম,মাছ,মাংস কিছু পরিমাণে হলেও থাকা চাই। তবে সেটা শুধু ছেলেদের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকলো।বাবা-মা ধারণা করতো ছেলেরা বাইরে পরিশ্রম করে তাই তাদের বেশি খাওয়া দরকার। তখনো পুষ্টি কিংবা সুষম খাদ্যাভ্যাস নিয়ে তেমন কারো মাথাব্যথা নেই।
চিকিৎসা সেবা কিছু টা উন্নত হলো।বাবা-মা বলতে শুরু করলো চলো খাবার খাই। সবাই বুঝতে পারলো শুধু খাদ্য গ্রহণ করলেই হবে না বরং খাবারের মধ্যে প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ থাকতে হবে। শুধু অধিক পরিমাণে ভাত খাওয়ার মাধ্যমে সেই পুষ্টিগুণ অর্জন করা সম্ভব না। সুষম খাদ্যাভ্যাসই পারে সেই পুষ্টিগুণ নিশ্চিত করতে। খাবারের মধ্যে যেমন ভাত তথা কার্বোহাইড্রেট দরকার তেমনই মাছ,গোশত তথা প্রোটিন, ফ্যাট দরকার আছে।
এখন আমরা বুঝতে শিখেছি, জানতে শিখেছি আমরা জানি অধিক পরিমাণে ভাত খাওয়া কখনোই ভালো কিছু বয়ে আনবে না।পাশাপাশি কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, লিপিড,ভিটামিন সহ অন্যন্য প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থগুলোও খাদ্যাভাসে থাকা চাই। উচ্চতর শিক্ষায় এখন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে পুষ্টি ও খাদ্য নিয়ে বিভিন্ন বিভাগ। কিন্তু তারপর ও আমরা আমাদের অবস্থানের কিংবা স্টাটাস জানান দিতে কিছু হইলেই অধিক ফ্যাটসমৃদ্ধ বার্গার,পিজ্জা,পাস্তা,গ্রিল, ড্রিংস এর আড়ালে অ্যালকোহল পান করে থাকি।এভাবেই জেনে বুঝে এগিয়ে যাচ্ছি ভয়াবহ বিভিন্ন রোগের দিকে, নিজেই নিজের জন্য আত্মঘাতী হয়ে যাচ্ছি। এখন সময় এসেছে বাবা-মা সন্তানদের বলার: চলো,উপযুক্ত খাবার খাই।

















