
মো. ইমরান হোসেন,
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি ।।
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার বিএনপি নেতা আলী আজম খাঁন প্যারোলে মুক্তি পেয়ে হাতে হাত -কড়া ও পায়ে ডান্ডাবেড়ি অবস্থায় মায়ের জানাজার ইমামতি করেছেন। এ দৃশ্য জনাজায় অংশ নেয়া সকল মুসুল্লি, এলাকাবাসী, রাজনৈতিক ও সর্ব মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
জানাযায়, উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের পাবুরিয়াচালা – গাছবাড়ি এলাকার মৃত উম্মত আলী খাঁনের ছেলে মো. আলী আজম খাঁন ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি। কালিয়াকৈর থানায় ২৯ নভেম্বর বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে করা মামলার অজ্ঞাতনামা আসামীর মধে তাকে ২ ডিসেম্বর গ্রেফতার করে পুলিশ। বার্ধক্য জনিত কারণে আলী আজমের মা মৃত্যুবরণ করলে যথানিয়মে গাজীপুর জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করলে সে ২০ ডিসেম্বর প্যারোলে মুক্ত পায়। মঙ্গলবার সকাল ১০ ঘটিকায় পুলিশ প্রহরায় নিজ বাড়িতে আসেন এবং ১১ ঘটিকায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মো. আলী আজম খাঁন হাতে হাতকড়া ও পায়ে ডান্ডা বেড়ি পরা অবস্হায় মায়ের জানাজার ইমামতি করলেন। জানাজা নামাজের সময় তার ডান্ডা বেড়ি খুলে দেয়ায় জন্য স্হানীয়রা অনেক অনুরোধ করলেও পুলিশ তা শোনেনি। মায়ের দাফন শেষে পুলিশ পূনরাই তাকে কারাগারে নিয়ে যায়। আজম আলী খাঁনের হাতে হাত করা ও পায়ে ডাণ্ডা বেড়ি পরা মায়ের জানাজায় ইমামতি করার দৃশ্য দেখে মুসুল্লিদের চাপাকান্নায় বিমূর্ষ দেখাচ্ছিল। এব্যাপারে এলাকাজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বইছে।
বোয়ালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান, জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক ভিপি আ,ন,ম খলিলুর রহমান ইব্রাহীম ও কালিয়াকৈর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পারভেজ আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক ও উদ্দেশ্যমূলক মামলায় আলী আজম খাঁনকে প্যারোলে মুক্তি অবস্হায় মায়ের জানাজা নামাজে হতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি থাকা স্বাধীন দেশে এ দৃশ্য বিশ্বাস হচ্ছেনা, এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা কালিয়াকৈর উপজেলা শাখার সভাপতি মো.শাহজাহান মিয়া ও গাজীপুর জজ কোর্টের আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী এডভোকেট মো. মিজানুর রহমান বলেন, যেহেতু আলী আজম খাঁন একজন রাজনৈতিক মামলার আসামী, সে কোন দণ্ডপ্রাপ্ত, দূধর্ষ বা জঙ্গি আসামী নয়, তাকে বিশেষ বিবেচনায় পুলিশ প্রহরায় প্যারোলে মুক্তি মানে স্বাধীন। মায়ের জানাজা নামাজের ইমামতির সময় তার হাতকড়া ও ডান্ডাবেড়ি থাকা অমানবিক। এরুপ বিদ্বেষ মূলক আচরণে জনমনে আইনের প্রতি মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিবে। ফলে এঘটনাটি সংবিধান পরিপন্থী ও চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন।

















