
মো.ইমরান হোসেন,
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি।।
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পৌষ মাসের শীত আর ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে শুরু হয়েছে ইরি-বোরো চাষাবাদ। শীতে ইরি-বোরোর চারা নষ্ট হলেও রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। অপরদিকে উত্তর বঙ্গ থেকে আসা কালিয়াকৈর বাসষ্ট্যান্ড চত্তরে প্রতিদিন ভোর ৬ টা থেকে ৭ টার মধ্যে শত শত শ্রমিকদের পদচারনায় ভীর লেগে যায়। কিন্তু একঘণ্টার মধ্যে সকল শ্রমিকরা স্হানীয় কৃষকদের সাথে দামদর মিটিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ধান রোপন করার কাজে চলে যাচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, শীতের কারণে মাঠে কাজ করতে বেশি টাকা চাচ্ছেন শ্রমিকরা। মৌসুমের শুরুতেই বেড়ে গেছে ধান চাষের উৎপাদন খরচ। খরচ বাড়লেও চাহিদা অনুযায়ী নেই কৃষকের ধানের দাম। বছর বছর উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাড়ে না ধানের দাম। উল্টো কমে যায়। অপরদিকে শ্রমিক সংকটের কারণে শ্রমিক -মুজুরীও অনেক বেশী। ফলে হতাশ কৃষকরা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিলের জমিতে পানি থাকা অবস্হায় বোরো-ইরি ধান রোপন করছেন। পাশাপাশি গভীর নলকূপ ও সেলু পাম্পের সাহায্যে পানি দিয়ে জমি প্রস্তুত করছেন কৃষকরা , আবার কেউ বীজ তুলছেন আবার কেউ চারা লাগাচ্ছেন।
ভাউমান এলাকার কৃষক জয়নাল আবেদীন (৭০) জানান, জমি চাষ, সার, কীটনাশক, শ্রমিকদের মজুরি ও সেচের পানিসহ সব কিছুর দাম বেশি। উৎপাদন খরচ অনুয়ায়ী ধানের দাম কম। গত বছর দুবার বন্যার সঙ্গে যুদ্ধ করে ভালো ফলন হলেও মেলেনি উপযুক্ত দাম। বাঁচার তাগিদে শীত ও সব খরচ উপেক্ষা করে ইরি-বোরোর চাষ করছেন কৃষকরা।
ঢালজোড়া এলাকার কৃষক মো. রুস্তম আলী (৬৭)জানান , ভালো ফলনের আশায় শীত ও উৎপাদন খরচ উপেক্ষা করে কঠোর পরিশ্রম করছি আমরা। এরপরও ধান বিক্রির সময় উপযুক্ত দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। এখন ধান চাষ করে উৎপাদন খরচই ওঠে না।
আটাবহ ইউনিয়নের কৃষক মুসলেম উদ্দিন (৬০) বলেন। , ধান চাষ করে ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার খরচ ও সংসার চালানো এখন খুবই কষ্টকর।
বলিয়াদী গ্রামের চাষি আব্দুল মমিন বলেন, হাড় কাঁপানো শীত আর কুয়াশাযুক্ত মাঠে কাজ করতে বেশি টাকা নিচ্ছেন শ্রমিকরা। এদিকে সারও কীটনাশকের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, সেইসাথে , জমিতে সেচ দিতে খরচ, বীজ বোপন, চারা রোপণ ও জমিতে চাষ দিয়ে অতিরিক্ত খরচ নেয়া হয়। বোরো মৌসুমের শুরুতেই বেড়ে গেছে উৎপাদন খরচ। ধান কাটার সময় দেখা যাবে বাজারে দাম নেই। তখন আমাদের সব কষ্ট মাটি হয়ে যায়।
কুড়িগ্রাম থেকে আসা কৃষিশ্রমিক মারফত আলী(৩৫), রংপুর থেকে হাফিজ উদ্দিন ৪০) ও নীলফামারী থেকে আসা রাসেল মিয়া (৩০) বলেন , প্রচুর শীত আর কুয়াশায় মাঠে কাজ করা অনেক কষ্টকর। সংসার চালানোর তাগিদে কাজ করতে হয়। তবে শ্রমিকদের দাম বেশি। আগের মতো শ্রমিক পাওয়া যায় না।

















