
তৌহিদ বেলাল
কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি।।
কক্সবাজারের বাঁকখালী নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনেও উচ্ছেদ অভিযান চলেছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান চলে গতকাল বুধবার সারাদিনও। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে অভিযানে পরিবেশ অধিদফতর, বনবিভাগ, বিআইডব্লিউটিএসহ বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ছিলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সদস্য।
অভিযানে নদীর তীরের ভরাট জায়গায় সীমানা পিলার দিয়ে জবরদখল করা কয়েকশ’ পাকা, আধাপাকা ও কাঁচা ঘর গুড়িয়ে দেয়া হয়। শত শত পিলার দিয়ে করা বাউন্ডারি ওয়ালগুলোও ভেঙে দেয়া হয়।
প্রথম দিনের উচ্ছেদ চলাকালীন সময়ে লাঠি হাতে কর্তব্যরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায় বহুল আলোচিত দখলদার, আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল খালেক চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বেশকিছু যুবক। সাংবাদিকরা জানান, হঠাৎ হাতে লাঠি নিয়ে দখলদার আবদুল খালেকসহ যুবকরা গালিগালাজ করতে করতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। এসময় তৌফিকুল ইসলাম লিপু, মাঈনউদ্দিন হাসান শাহেদ ও শংকর বড়ুয়াসহ আরো কয়েকজন সাংবাদিককে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোঁড়া হয়। পরে অবশ্য খালেক চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান জানান, দুই দিনের উচ্ছেদ অভিযানে প্রায় ৫০০ একর জমি উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, দখলদাররা
বিভিন্নভাবে উচ্ছেদ বন্ধের চেষ্টা চালাচ্ছে। উচ্চ আদালতের আদেশে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। নদীর তীর জবরদখল করে গড়ে তোলা সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এডিএম বলেন- ‘এখানে একটি নদীবন্দর করতে সরকারি প্রজ্ঞাপন রয়েছে। তাই এই জমি বিআইডব্লিউটিএকে বুঝিয়ে দিতে হাইকোর্টের রায় রয়েছে’।
কক্সবাজার শহরের কস্তুরাঘাটের বদরমোকাম জামে মসজিদ এলাকা থেকে পূর্ব দিকে পেশকারপাড়া পর্যন্ত পাঁচটি দাগে নদী, খাল ও বালুচর শ্রেণীর ১৪৬ একর বাঁকখালী নদীর সরকারি জমি গত ৫ বছরে প্রকাশ্যে দখল করা হয়েছে। এর ফলে জমির সহস্রাধিক একর প্যারাবন, জীববৈচিত্র্য ও পাখির আবাসস্থল ধ্বংস হয়েছে।ৃ্ব রে.

















