Dhaka , Wednesday, 22 April 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
সিলেট ও শ্রীমঙ্গলে ঝড় ও বজ্রাপাতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।। মানুষকে ভালোবাসেন বলেই তাদের টানে আমেরিকা ছেড়ে দেশের এসে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন- দেলোয়ার মোমেন।। শরীয়তপুরে পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা কালে জনতার হাতে যুবক আটক।। রামগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ আরাফাতের  নিজস্ব অর্থায়নে রাস্তা সংস্কার।। রূপগঞ্জে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ঈদসামগ্রী বিতরণ।। তিতাসের জিয়ারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেনের শিক্ষকতার দুই যুগপূর্তি।। কোম্পানীগঞ্জে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার- স্বামী পলাতক।। নরসিংদী বৃষ্টির কারনে পশুর হাটে বেচা কেনা কম।। মায়ের সামনে পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু।। ঈদুল আযহা উপলক্ষে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে টানা ৮ দিন আমদানি রপ্তানি বন্ধ।। শেখ কামাল আইটি ট্রেনিংয়ে সারাদেশের মধ্যে প্রথম হয়েছে রাজাপুরের মশিউর রহমান তামিম।। সুন্দরগঞ্জের দহবন্দ ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরণ।। কুমিল্লা পিটিআই কর্তৃক সততা নৈতিকতা ও শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলেন- তানজুরুন নাহার।। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সদরপুরে বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর শুভ সূচনা।। সড়কতো নয় যেন ধান শুকানোর চাতাল।। তিতাসে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণ অনুষ্ঠিত।। ঈদ উপলক্ষে হিলিতে বিনামূল্যে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসাবে চাল বিতারণ।।  পাবনায় হত্যায় মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।। আই-ইইই ইবি স্টুডেন্ট ব্রাঞ্চের সভাপতি পিয়াস সম্পাদক ইকবাল।। পাবনা জেলা স্কুল জাতীয় পর্যায়ে কুইজ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয়।। সিলেটে বৃস্পতিবার সকাল থেকে ভারী বৃষ্টিপাত-ফের জলাবদ্ধতার শঙ্কা।। জনপ্রিয়তা ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রফিক আমার নামে মিথ্যাচার চালাচ্ছে- আবুল বাশার  বাদশা।। নিখোঁজের দুদিন পর মাদরাসা ছাত্রের মরদেহ মিলল ঘাটলার নিচে।। ঝালকাঠিতে হত্যা মামলায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন।। সুন্দরগঞ্জে পশুর হাট নিয়ে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে ৩ রাউন্ড গুলি বিনিময়- পুলিশসহ আহত ১০।। নোয়াখালীতে পানিতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু।। পাবনায় শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নছিমন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ২ জন নিহত আহত -৭ জন।। রূপগঞ্জ কাঞ্চন পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী রফিক সমর্থকদের উপর হামলা।। ৩৬ দিন পর যুবকের লাশ উত্তোলন- ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের।। শিবচরে আগুনে ১৩ গরু মারা গেছে।।

সদরপুরে বিলুপ্তির পথে মৃৎশিল্প।।

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 09:01:21 am, Saturday, 21 October 2023
  • 131 বার পড়া হয়েছে

সদরপুরে বিলুপ্তির পথে মৃৎশিল্প।।

শিমুল তালুকদার
সদরপুর থেকে।। 
আধুনিক প্রযুক্তির নতুন নতুন উদ্ভাবন যেমন জীবনকে সহজ করেছে, তেমনি এর প্রভাবে পুরোনো অনেক দৈনন্দিন পণ্য হারিয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের শত শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী কিছু পেশা। তেমনই এক পেশা মৃৎশিল্প। মাটির তৈরি জিনিসের চাহিদা কমে যাওয়ায় সদরপুর উপজেলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে এ শিল্পটি। এক সময়ের কোলাহলপূর্ণ বাস্ত কুমারপাড়ায় এখন সুনসান নীরবতা। বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করছেন মাটির কারিগররা। উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে আগে মুৎশিল্প বিক্রি হতো, বাজারগুলো এখনো জমজমাট থাকলেও উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের কুমারবাড়ীর ঐহিত্যবাহী মুৎশিল্প আজ বিলুপ্তির পথে।
সরেজমিনে গ্রামটি ঘুরে দেখা যায়, গ্রামে প্রায় ২০ থেকে ৩০ টি পরিবার রয়েছে। পাড়ার সবাই সনাতন ধর্মাবলম্বী। নন্দ পাল, হরেন্দ্র পাল, সুবল পাল এরা কেউ সামনে পুজো উপলক্ষে প্রতিমা ও বিভিন্ন ধরনের জিনিস তৈরি করছেন। তাদের শিক্ষা ও জীবনযাত্রার মান অনুন্নত। এখন মাত্র কয়েকটি পরিবারের কারিগরেরা বাপ-দাদার আদি পেশা কোনোমতে আঁকড়ে ধরে আছেন। তাঁদের পেশার দৈন্যদশার সঙ্গে সঙ্গে সংসার জীবনে বিরাট বিপর্যয় নেমে এসেছে। অ্যালুমিনিয়াম ও প্লাস্টিকের তৈজসপত্রের দাম বেশি হলেও অধিক টেকসই হয়। এজন্য সেটি বাজার দখল করে নিয়েছে।
বাবা দাদাদের পেশাকে যে গুটি কয়েক জন আঁকড়ে আছেন, তাদের মধ্যে একজন হরেন্দ্র পাল। তিনি জানান, বাবার কাছ থেকেই মৃৎশিল্পের কাজ শিখেছেন। তবে আধুনিক পণ্যের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারায় এ পেশা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। ঠিক কবে নাগাদ এখানে মৃৎশিল্পের গোরাপতন হয়েছে, সেটা সঠিকভাবে বলতে না পারলেও তিনি জানান, তার বারর আমল থেকেই এখানকার মাটির তৈরি জিনিসপত্রের খ্যাতি সারা দক্ষিণাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। তার বাবা দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে মাটি তৈরি জিনিসপত্রের আগাম অর্ডার পেতেন। তখন তাদের কুমারপাড়া স্বর্ণযুগ পার করেছে।
তিনি আরো জানান, এক সময় মাটির তৈরি মালসা ছিল অন্যতম প্রয়োজনীয় তৈজসপত্র। বিশেষ করে অত্র অঞ্চলে এর চাহিদা ছিল প্রচুর। এছাড়া তাতের হাঁড়ি, মাটির কলস এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হওয়ায় প্রচুর বিক্রি হতো। তবে সেই দিন এখন আর নেই। বর্তমানে বিভিন্ন মেজবানের অনুষ্ঠানে প্লাস্টিকের পণ্য ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া বাসা বাড়িতেও এখন ম্যালামাইন ও প্লাস্টিক পণ্যের চাহিদা বেশি হওয়ায় মাটির জিনিসপত্রের চাহিদা এখন তলানিতে এসে পৌঁছেছে। এখন অল্প পরিমাণে ফুলের টব বিক্রি হয়, তবে কাঁচামালের দাম বেশি হওয়াতে ক্রেতারা এটারও বিকল্প পদ ব্যবহার শুরু করেছেন ।
হরেন্দ্র পাল জানান, পণ্যের চাহিদা কম থাকায় নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা এ পেশায় আসতে চায় না। বর্তমানে তিনি বাদে আর অল্প কয়েকজন এই পেশায় আছেন। 
গৃহবধূ মিনতি রানী পাল বলেন, মাটির এসব কাজ আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য। আমাদের কয়েক পুরুষ ধরে এ কাজ করে আসছে। আমরাও করছি। মাঠ থেকে মাটি এনে পণ্য তৈরি করে বিক্রি করে আমরা জীবিকা চালাই।
এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আহসান মাহমুদ রাসেল কালের কন্ঠকে বলেন, সরকার ঐতিহ্যবাহী পেশা ও পণ্যগুলো রক্ষায় বদ্ধপরিকর। এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সবার এগিয়ে আসা উচিৎ। তাদের যদি কোনো সহায়তার দরকার হয়, সেটা অবশ্যই করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপগঞ্জে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রীর নির্দেশে নির্মিত চার সড়কের উদ্বোধন।।

পেকুয়ায় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে প্লাবিত,২ শত পরিবার পানিবন্দী।।

সিলেট ও শ্রীমঙ্গলে ঝড় ও বজ্রাপাতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।।

সদরপুরে বিলুপ্তির পথে মৃৎশিল্প।।

আপডেট সময় : 09:01:21 am, Saturday, 21 October 2023
শিমুল তালুকদার
সদরপুর থেকে।। 
আধুনিক প্রযুক্তির নতুন নতুন উদ্ভাবন যেমন জীবনকে সহজ করেছে, তেমনি এর প্রভাবে পুরোনো অনেক দৈনন্দিন পণ্য হারিয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের শত শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী কিছু পেশা। তেমনই এক পেশা মৃৎশিল্প। মাটির তৈরি জিনিসের চাহিদা কমে যাওয়ায় সদরপুর উপজেলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে এ শিল্পটি। এক সময়ের কোলাহলপূর্ণ বাস্ত কুমারপাড়ায় এখন সুনসান নীরবতা। বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করছেন মাটির কারিগররা। উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে আগে মুৎশিল্প বিক্রি হতো, বাজারগুলো এখনো জমজমাট থাকলেও উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের কুমারবাড়ীর ঐহিত্যবাহী মুৎশিল্প আজ বিলুপ্তির পথে।
সরেজমিনে গ্রামটি ঘুরে দেখা যায়, গ্রামে প্রায় ২০ থেকে ৩০ টি পরিবার রয়েছে। পাড়ার সবাই সনাতন ধর্মাবলম্বী। নন্দ পাল, হরেন্দ্র পাল, সুবল পাল এরা কেউ সামনে পুজো উপলক্ষে প্রতিমা ও বিভিন্ন ধরনের জিনিস তৈরি করছেন। তাদের শিক্ষা ও জীবনযাত্রার মান অনুন্নত। এখন মাত্র কয়েকটি পরিবারের কারিগরেরা বাপ-দাদার আদি পেশা কোনোমতে আঁকড়ে ধরে আছেন। তাঁদের পেশার দৈন্যদশার সঙ্গে সঙ্গে সংসার জীবনে বিরাট বিপর্যয় নেমে এসেছে। অ্যালুমিনিয়াম ও প্লাস্টিকের তৈজসপত্রের দাম বেশি হলেও অধিক টেকসই হয়। এজন্য সেটি বাজার দখল করে নিয়েছে।
বাবা দাদাদের পেশাকে যে গুটি কয়েক জন আঁকড়ে আছেন, তাদের মধ্যে একজন হরেন্দ্র পাল। তিনি জানান, বাবার কাছ থেকেই মৃৎশিল্পের কাজ শিখেছেন। তবে আধুনিক পণ্যের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারায় এ পেশা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। ঠিক কবে নাগাদ এখানে মৃৎশিল্পের গোরাপতন হয়েছে, সেটা সঠিকভাবে বলতে না পারলেও তিনি জানান, তার বারর আমল থেকেই এখানকার মাটির তৈরি জিনিসপত্রের খ্যাতি সারা দক্ষিণাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। তার বাবা দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে মাটি তৈরি জিনিসপত্রের আগাম অর্ডার পেতেন। তখন তাদের কুমারপাড়া স্বর্ণযুগ পার করেছে।
তিনি আরো জানান, এক সময় মাটির তৈরি মালসা ছিল অন্যতম প্রয়োজনীয় তৈজসপত্র। বিশেষ করে অত্র অঞ্চলে এর চাহিদা ছিল প্রচুর। এছাড়া তাতের হাঁড়ি, মাটির কলস এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হওয়ায় প্রচুর বিক্রি হতো। তবে সেই দিন এখন আর নেই। বর্তমানে বিভিন্ন মেজবানের অনুষ্ঠানে প্লাস্টিকের পণ্য ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া বাসা বাড়িতেও এখন ম্যালামাইন ও প্লাস্টিক পণ্যের চাহিদা বেশি হওয়ায় মাটির জিনিসপত্রের চাহিদা এখন তলানিতে এসে পৌঁছেছে। এখন অল্প পরিমাণে ফুলের টব বিক্রি হয়, তবে কাঁচামালের দাম বেশি হওয়াতে ক্রেতারা এটারও বিকল্প পদ ব্যবহার শুরু করেছেন ।
হরেন্দ্র পাল জানান, পণ্যের চাহিদা কম থাকায় নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা এ পেশায় আসতে চায় না। বর্তমানে তিনি বাদে আর অল্প কয়েকজন এই পেশায় আছেন। 
গৃহবধূ মিনতি রানী পাল বলেন, মাটির এসব কাজ আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য। আমাদের কয়েক পুরুষ ধরে এ কাজ করে আসছে। আমরাও করছি। মাঠ থেকে মাটি এনে পণ্য তৈরি করে বিক্রি করে আমরা জীবিকা চালাই।
এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আহসান মাহমুদ রাসেল কালের কন্ঠকে বলেন, সরকার ঐতিহ্যবাহী পেশা ও পণ্যগুলো রক্ষায় বদ্ধপরিকর। এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সবার এগিয়ে আসা উচিৎ। তাদের যদি কোনো সহায়তার দরকার হয়, সেটা অবশ্যই করা হবে।