তৌহিদ বেলাল
ব্যুরো চিফ কক্সবাজার।।
ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন ও অক্সফাম ইন বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরাম বাস্তবায়িত
এম্পাওয়ারমেন্ট অব্ ফিশারমেন্ট ইন কোস্টাল চট্টগ্রাম এন্ড কক্সবাজার -ইএফসিসিসি-প্রকল্পের আওতায় রোববার -১৯ নভেম্বর- কক্সবাজার পৌরসভা মিলনায়তনে দিনব্যাপী এক সাংবাদিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মো. মাহাবুবুর রহমান চৌধুরী।
ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরামের প্রধান নির্বাহী উৎপল বড়ুয়ার সভাপতিত্বে কর্মশালায় সেশন সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফরিদুল আলম শাহীন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিএনএন বাংলা সম্পাদক তৌহিদ বেলাল।
কর্মশালা পরিচালনা করেন ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরাম এর ম্যানেজার -সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট-সোহাইল উদ
দোজা।
কর্মশালায় মৎস্যজীবী ও মৎস্যখাতে কর্মরত নারীদের সামাজিক ও আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীঘটিত
সহিংসতা হ্রাস, জেন্ডার বৈষম্য নিরসন, পেশাগত স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো, জীবন-জীবিকার মানোন্নয়ন, সোশ্যাল
সেফটিনেটের আওতায় সরকারি সেবার পরিধি বাড়ানো ইত্যাদি বিষয়ের উপর ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরাম এর কার্যক্রমের ভিত্তিতে সাংবাদিকদের ধারনা প্রদান করা হয়।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন কক্সবাজার নিউজ এর বার্তা সম্পাদক ইমাম খায়ের মাই টিভির কক্সবাজার প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম দৈনিক
আমার সংবাদ এর জেলা প্রতিনিধি রাশেদুল ইসলাম, বিজনেস বাংলাদেশ এর কক্সবাজার প্রতিনিধি জাহেদ হোসেন ও
দৈনিক প্রলয় এর জেলা প্রতিনিধি ফরিদা ইয়াসমিন মুন্নি।কর্মশালায় ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরাম কর্তৃক কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার মৎস্যজীবী ও মৎস্যখাতে কর্মরত
নারীদের উপর সম্পাদিত একটি বেইজলাইন সার্ভে প্রতিবেদন, পেশাগত স্বাস্থ্যঝুঁকির উপর পরিচালিত একটা গবেষণা
প্রতিবেদন এবং মৎস্যজীবীদের জন্য প্রকাশিত সচেতনতামূলক ফ্লিপচার্ট উপস্থাপন করা হয়।
কর্মশালায়-সাংবাদিকগণ জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা হ্রাস, জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেন, নিরাপদ শুটকি বাজারজাতকরণ, কোল্ড
স্টোরেজ বাড়ানো, মায়ের কর্মস্থলে শিশুর দুগ্ধপানের ব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয়ের উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং
মৎস্যজীবী নারীদের সার্বিক বিষয়ের উপর স্ব স্ব মিডিয়াতে প্রতিবেদন লিখে মৎস্যজীবী নারীদের অধিকার আদায়ে
ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
কর্মসূচি-১ অক্টোবর ২০২২-৩১ মার্চ ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৭ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা।
বলা হয়েছে মৎস্যজীবী ও মৎস্যখাতে কর্মরত প্রান্তিক নারীদের ক্ষমতায়ন এবং তাদের আইনী অভিগম্যতা ও আইনগত অধিকার প্রচারেই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
কক্সবাজারে তাদের কর্ম এলাকা ককসবাজার সদর, ককসবাজার পৌরসভা, উখিয়া ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছ। কমিউনিটি ভিত্তিক ১০০০ হাজার মৎস্যজীবী ও মৎস্যখাতে কর্মরত নারীদের নিয়ে ৪০টি স্ব-সহায়ক দল গঠন করে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
কক্সবাজার’র জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩১ লক্ষ ৯৬ হাজার ৮৫০ টাকা ও চট্টগ্রাম’র জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২৬ লক্ষ দুই হাজার ১৫০ টাকা।
কর্মশালায় আরো বলা হয়েছে ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরাম একটি শান্তিপূর্ণ সমাজের স্বপ্ন দেখে যেখানে জনগন বৈষম্য, সংঘাত ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি সুখী, স্বাস্থ্যকর ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন অতিবাহিত করে।
ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরাম সামাজিক পরিবর্তন, দক্ষতা উন্নয়ন, এডভোকেসি, উদ্ভাবন, গবেষণার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নে সচেষ্ট যাতে তাদের মানবিক ও আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তাদের মৌলিক চাহিদাগুলো স্থায়ীভাবে অর্জিত হয়।
প্রকল্পের উদ্দেশ্য হল লিংঙ্গভিত্তিক বৈষম্য এবং সহিংসতা প্রতিরোধের জন্য মৎস্যখাতে কর্মরত নারীদের সচেতনতা করা।

















