রাজিব আহমেদ,নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি।।
বাংলার ম্যানচেস্টার খ্যাত নরসিংদীর মাধবদীতে গড়ে উঠেছে নামে-বেনামে অসংখ্য আবাসিক হোটেল। আর এ হোটেলগুলোতেই চলছে রমরমা দেহব্যবসা। নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী পৌর শহরস্থ মাধবদী বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশ এলাকায় গড়ে উঠা আবাসিক হোটেলগুলোতে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দিন-রাত চলছে অসামাজিক কার্যকলাপ বা দেহব্যবসা।
মাধবদী থেকে ফিরে আমাদের প্রতিনিধি জানান যে, বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ কাপড় এখান থেকে উৎপন্ন হওয়ায় এলাকাটি শিল্প এলাকা হিসেবে গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি ব্যবসা কেন্দ্রিক হওয়ায় সারাদেশ থেকে এখানে বিভিন্ন স্তরের মানুষের আনাগোনা এবং কলকারখানা স্হাপন হওয়ার কারণে এখানে বিভিন্ন জেলা থেকে আগ্রহ শ্রমিক/কর্মচারীদের বসবাস চোখে পড়ার মতো। এসুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু স্বার্থন্বষী মহল মাধবদী বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশ এলাকায় হোটেল গাজী, ঝিনুক, ওয়েস্টিন, ঈগল ও নিরিবিলি সহ ব্যাঙের ছাতার মতো নামে-বেনামে গড়ে তুলেছে অসংখ্য আবাসিক হোটেল। আবাসিক নামক এসব হোটেলগুলোতে দিনরাত চলছে দেহব্যবসা ও জুয়া খেলা। হোটেল গাজী ও ঝিনুককে গিয়ে দেখা যায়, হোটেলে উঠতেই কলাপসিবল গেইটে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে গেইটের ভিতর নিরাপত্তার দায়িত্বে দুজন প্রহরী বসে পাহারা দিচ্ছেন। গেইট খুলে ভিতরে প্রবেশ করলে হোটেলের অভ্যর্থনা ডেস্কে হোটেল আসা অতিথিদের নাম লিপিবদ্ধ রেজিস্ট্রারে যাচাই করলে দেখা যায় অধিকাংশ অতিথিরই নাম-ঠিকানা নেই। তখন পাশের রুমগুলোতে চলছে নর-নারীদের মিলনমেলা। আরেক রুমে দেখ যায় বেশ কয়েকজন মিলে বসিয়েছে জুয়ার আসর।
জুয়া খেলতে আসা কবির জানান যে, তারা কয়েকজন মিলে হোটেলের একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে জুয়া খেলেন। তিনি আরও জানান, হোটেলে জুয়া খেলা নিরাপদ। হোটেলে সিসি ক্যামেরা, গেইটে তালা থাকায় পুলিশের ভয় কম থাকে। মাঝে মাঝে পুলিশ অভিযান চালালে হোটেলের কর্মচারীরা সিসি ক্যামেরা দেখে আগেই আমাদেরকে অন্যত্রে সরিয়ে নেয় বা হোটেলের স্টাফ বানিয়ে দেয়। তাই আমরা এখানে আসি খেলতে।
হোটেল গাজীর ম্যানেজার জহির বলেন, দুই/একজন কাস্টমার আসে তাদের পরিবার নিয়ে। তারা কয়েকঘন্টা থাকার পর চলে যায়। তাই রেজিস্ট্রার খাতায় অনেক সময় নাম-ঠিকানা লেখা হয়না। আর জুয়া খেলা। তারা সবাই হোটেলের স্টাফ বা কর্মচারী। কাজ নাই তাই বসে সময় কাটাছে। থানা থেকে প্রতিনিয়ত অডিট করতে আসেন। সবঠিকঠাক আছে। ঠিক না থাকলে হোটেল চলবো কিভাবে। আমরা সব ম্যানেজ কইরাই চালাই এমনটাই বলেন তিনি।
হোটেলের নিজে দোকানদার (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, কি আর বলবো ভাই। এসব অবৈধ হোটেলগুলোতে সবকিছুই পাওয়া যায়। তাদের জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে গেছি। ভয়ে কিছু বলতে পারিনা। কিছু বললেই এলাকার মাস্তানরা চলে আসে। তাই ডাল দিয়ে ভাত খাই, লাইল দিয়ে হাঁইটা যাই। মাধবদী ব্যবসা ও শিল্প এলাকা হওয়ায় এখানে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ বসবাস করায় আবাসিক হোটেল গুলোতে মানুষের চলাচল অবাধ হওয়ার কারণে, সে সুযোগকে কাজে লাগিয়ে হোটেল মালিকরা দেহব্যবসা ও জুয়ার আসর বসিয়ে অসত উপায়ে অবৈধভাবে টাকা উপার্জন করছে এবং অসামাজিক কার্যকলাপে যুক্ত থাকা হোটেলগুলো সামাজিক পরিবেশ ও এলাকার উঠতি বয়সের ছেলেদেরকে নষ্ট করছে বলে মনে করেন স্থানীয় এলাকাবাসী

















