Dhaka , Wednesday, 22 April 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
সিলেট ও শ্রীমঙ্গলে ঝড় ও বজ্রাপাতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।। মানুষকে ভালোবাসেন বলেই তাদের টানে আমেরিকা ছেড়ে দেশের এসে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন- দেলোয়ার মোমেন।। শরীয়তপুরে পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা কালে জনতার হাতে যুবক আটক।। রামগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ আরাফাতের  নিজস্ব অর্থায়নে রাস্তা সংস্কার।। রূপগঞ্জে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ঈদসামগ্রী বিতরণ।। তিতাসের জিয়ারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেনের শিক্ষকতার দুই যুগপূর্তি।। কোম্পানীগঞ্জে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার- স্বামী পলাতক।। নরসিংদী বৃষ্টির কারনে পশুর হাটে বেচা কেনা কম।। মায়ের সামনে পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু।। ঈদুল আযহা উপলক্ষে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে টানা ৮ দিন আমদানি রপ্তানি বন্ধ।। শেখ কামাল আইটি ট্রেনিংয়ে সারাদেশের মধ্যে প্রথম হয়েছে রাজাপুরের মশিউর রহমান তামিম।। সুন্দরগঞ্জের দহবন্দ ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরণ।। কুমিল্লা পিটিআই কর্তৃক সততা নৈতিকতা ও শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলেন- তানজুরুন নাহার।। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সদরপুরে বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর শুভ সূচনা।। সড়কতো নয় যেন ধান শুকানোর চাতাল।। তিতাসে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণ অনুষ্ঠিত।। ঈদ উপলক্ষে হিলিতে বিনামূল্যে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসাবে চাল বিতারণ।।  পাবনায় হত্যায় মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।। আই-ইইই ইবি স্টুডেন্ট ব্রাঞ্চের সভাপতি পিয়াস সম্পাদক ইকবাল।। পাবনা জেলা স্কুল জাতীয় পর্যায়ে কুইজ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয়।। সিলেটে বৃস্পতিবার সকাল থেকে ভারী বৃষ্টিপাত-ফের জলাবদ্ধতার শঙ্কা।। জনপ্রিয়তা ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রফিক আমার নামে মিথ্যাচার চালাচ্ছে- আবুল বাশার  বাদশা।। নিখোঁজের দুদিন পর মাদরাসা ছাত্রের মরদেহ মিলল ঘাটলার নিচে।। ঝালকাঠিতে হত্যা মামলায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন।। সুন্দরগঞ্জে পশুর হাট নিয়ে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে ৩ রাউন্ড গুলি বিনিময়- পুলিশসহ আহত ১০।। নোয়াখালীতে পানিতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু।। পাবনায় শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নছিমন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ২ জন নিহত আহত -৭ জন।। রূপগঞ্জ কাঞ্চন পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী রফিক সমর্থকদের উপর হামলা।। ৩৬ দিন পর যুবকের লাশ উত্তোলন- ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের।। শিবচরে আগুনে ১৩ গরু মারা গেছে।।

পিরোজপুর-৩, মঠবাড়িয়া আসনের সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলীর ফরাজীর অনিয়মের অভিযোগ

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 05:26:50 pm, Thursday, 23 June 2022
  • 132 বার পড়া হয়েছে

পিরোজপুর-৩, মঠবাড়িয়া আসনের সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলীর ফরাজীর অনিয়মের অভিযোগ

পিরোজপুর প্রতিনিধি।।

 

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর বিরুদ্ধে ঐচ্ছিক তহবিল নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ওই তহবিল থেকে অসহায় মানুষের নামে দুই থেকে দশ হাজার টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও সেই টাকা উত্তোলন করে নিজেই আত্মসাৎ করেছেন।

২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে ২০২০-২১ পর্যন্ত পিরোজপুর-৩, মঠবাড়িয়া আসনের সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর ঐচ্ছিক তহবিলে বরাদ্দ হওয়া টাকা বণ্টনের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নিজের আত্মীয়-স্বজন, তুলনামূলক সচ্ছল, নিজের প্রতিষ্ঠিত কলেজের শিক্ষক, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব টাকা তিনি নিজেই আত্মসাৎ করেছেন। অনেকে জানেনই না, তাদের নামে ঐচ্ছিক তহবিল থেকে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।এমনকি নিজের ব্যক্তিগত সহকারীর (পিও) নামেও বেশ কয়েকবার টাকা উত্তোলন করেছেন। সেই টাকার বিষয়ে জানেন না তার ব্যক্তিগত সহকারীও।

এছাড়া বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে দরিদ্রদের জন্য সরকারিভাবে দেওয়া পানির ট্যাংক বিতরণেও অনিয়ম করেছেন তিনি। দেড় হাজার টাকার বিনিময়ে এসব ট্যাংক দেওয়ার কথা থাকলেও প্রতিটি ট্যাংক বাবদ নেওয়া হয়েছে পাঁচ থেকে আট হাজার টাকা। ডা. রুস্তম আলী ফরাজী নিজের শশুরবাড়িতে দিয়েছেন তিন থেকে চারটি পানির ট্যাংক বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, হাসান নামের এক ব্যক্তির নামে কয়েক দফা ঐচ্ছিক তহবিলের টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। হাসানের বাবার নাম বাবুল মিয়া ঠিকানা সূর্যমনি, টিকিকাটা। ঠিকানার সূত্র ধরে খোঁজ পাওয়া যায় হাসানের। এ বিষয়ে হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমি এমপি মহোদয়ের ব্যক্তিগত সহকারী হিসাবে চার-পাঁচ বছর কাজ করছি। কিন্তু ঐচ্ছিক তহবিলের টাকা নেইনি কখনো। তিনি বলেন, আমি কেবল সংসদ সদস্যের কথামতো স্বাক্ষর করেছি। তিনি ঐচ্ছিক তহবিলের সব টাকা বাসায় এনে যাকে মন চায় দিতেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন কাজ করলেও আমাকে বেতন দেওয়া হয়নি। বেতনের টাকা তুলে এমপি মহোদয়ের স্ত্রীর হাতে দিতে হতো। চলাফেরার জন্য আমাকে মাত্র চার হাজার টাকা দেওয়া হতো।হাসান ছাড়া আরও অন্তত ২০ জনের সঙ্গে কথা হয়েছে এই প্রতিবেদকের, যাদের নামে ঐচ্ছিক তহবিলের টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ জনই বলেছেন তারা কোনো টাকা পাননি। এমনকি অনেকে জানেনই না তাদের নামে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে এসব সাধারণ মানুষ নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।স্থানীয় একটি প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মরিয়ম আক্তার। কাগজে-কলমে তিনি সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে দশ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন। তবে আদতে তিনি টাকা হাতে পাননি। এ বিষয়ে জানতে মরিয়ম আক্তারকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, আমি এমপির কাছে ঐচ্ছিক তহবিলের টাকার জন্য কোনো আবেদনও করিনি। টাকাও তোলেনি। এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান।এমনই আরেকজন স্থানীয় বাবুল মিয়ার মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকি। কাগজে-কলমে তার নামেও টাকা তোলা হয়েছে দশ হাজার। তবে তিনি বিষয়টি জানেন না বলে জানিয়েছেন যুগান্তরকে। তিনি বলেন, আমি ওসব জানি না। টাকাও পাইনি। রোমানা নামে আরেক নারীও একই কথা বলেছেন। তার নামে দশ হাজার টাকা উঠানো হলেও তিনি জানান, কখনোই তিনি কোনো টাকা হাতে পাননি। দুলাল নামের একজনের নামেও টাকা তোলা হয়েছে। তবে দুলালকে ফোন করা হলে তিনি টাকা পাননি বলে জানান। তবে কয়েকজন জানিয়েছেন, তাদের সংসদ সদস্যের লোকজন দুই হাজার টাকা নিতে বলেছিলেন। কিন্তু তাদের নামে বরাদ্দ হওয়া দশ হাজার টাকা চাইলে তা দিতে অস্বীকার করেন। পরে তারা ওই টাকাও নেননি।একইভাবে সংসদ সদস্যের চাচাতো ভাইয়ের ছেলে তুষখালী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাওলানা মাসুম, অপর চাচাতো ভাইয়ের ছেলে হাফেজ নাসির, কলেজ শিক্ষক বিপুল বিশ্বাস, বাশার, ভাগনে মো. কামাল, মেয়ের গাড়ি চালক মুশতাক, নিজ অফিস স্টাফ সোলায়মান, সাবেক পিএ মাসুম, ভাগনে জসিম, নাতি সম্পর্কিত মুসাসহ অন্তত কয়েকশ নিকটাত্মীয়র নামে ঐচ্ছিক তহবিলের টাকা তোলা হয়েছে। এছাড়া টাকা বরাদ্দের তালিকায় নাম রয়েছে সংসদ সদস্যের নিজ নামে প্রতিষ্ঠিত ডা. রুস্তম আলী ফরাজী কলেজের অধ্যক্ষ এবং আ. ওহাব আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষের নাম।এদিকে ২০১৯-২০ অর্থবছরে সাধারণ মানুষের সুপেয় পানির কষ্ট দূর করতে সরকার ৪৭ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে মঠবাড়িয়ায় নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে প্রকল্প হাতে নেয়। সেখানে তিন হাজার লিটার বৃষ্টির পানি ধারণক্ষমতার সাত হাজার ৪০০ পানির ট্যাংক দেওয়ার পাশাপাশি পাঁচটি পাবলিক টয়লেট, ১০০টি ডিপ টিউবওয়েল, কয়েকটি প্ল্যান্ট এবং পুকুর পুনর্খনন করার কথা ছিল। প্রকল্পের প্রতিটি পানির ট্যাংকির জন্য সুবিধাভোগীদের সরকার নির্ধারিত দেড় হাজার টাকা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও গুনতে হয়েছিল পাঁচ-সাত হাজার টাকা পর্যন্ত। শুধু গরিবদের ঘরপ্রতি একটি করে ট্যাংক বরাদ্দের কথা থাকলেও খোদ সংসদ সদস্যের শ্বশুরবাড়িতে তিন-চারটি ট্যাংক দেওয়া হয়। ট্যাংক বিক্রি করার অভিযোগও উঠেছিল পাশের উপজেলা পাথরঘাটায়।সার্বিক বিষয়ে জানতে মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঊর্মি ভৌমিককে ফোন করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে পরে পরে ফোন করতে বলেন। তবে পরে অনেক চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে জানতে কয়েকদিন ধরে অনেকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর কোন ফোন রিসিভ করেননি। প্রথমে তার সহকারী ফোন রিসিভ করলেও পরে তিনিও আর কোন তথ্য দেননি। রুস্তম আলী ফরাজী জাতীয় সংসদের পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান।

পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. তিরান হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রুস্তম আলী ফরাজী একটি মিটিংয়ে আছেন। মিটিং শেষ হলে কথা বলে প্রতিবেদককে জানাবেন তাকে বারবার ফোন দেয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপগঞ্জে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রীর নির্দেশে নির্মিত চার সড়কের উদ্বোধন।।

পেকুয়ায় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে প্লাবিত,২ শত পরিবার পানিবন্দী।।

সিলেট ও শ্রীমঙ্গলে ঝড় ও বজ্রাপাতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।।

পিরোজপুর-৩, মঠবাড়িয়া আসনের সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলীর ফরাজীর অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় : 05:26:50 pm, Thursday, 23 June 2022

পিরোজপুর প্রতিনিধি।।

 

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর বিরুদ্ধে ঐচ্ছিক তহবিল নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ওই তহবিল থেকে অসহায় মানুষের নামে দুই থেকে দশ হাজার টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও সেই টাকা উত্তোলন করে নিজেই আত্মসাৎ করেছেন।

২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে ২০২০-২১ পর্যন্ত পিরোজপুর-৩, মঠবাড়িয়া আসনের সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর ঐচ্ছিক তহবিলে বরাদ্দ হওয়া টাকা বণ্টনের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নিজের আত্মীয়-স্বজন, তুলনামূলক সচ্ছল, নিজের প্রতিষ্ঠিত কলেজের শিক্ষক, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব টাকা তিনি নিজেই আত্মসাৎ করেছেন। অনেকে জানেনই না, তাদের নামে ঐচ্ছিক তহবিল থেকে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।এমনকি নিজের ব্যক্তিগত সহকারীর (পিও) নামেও বেশ কয়েকবার টাকা উত্তোলন করেছেন। সেই টাকার বিষয়ে জানেন না তার ব্যক্তিগত সহকারীও।

এছাড়া বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে দরিদ্রদের জন্য সরকারিভাবে দেওয়া পানির ট্যাংক বিতরণেও অনিয়ম করেছেন তিনি। দেড় হাজার টাকার বিনিময়ে এসব ট্যাংক দেওয়ার কথা থাকলেও প্রতিটি ট্যাংক বাবদ নেওয়া হয়েছে পাঁচ থেকে আট হাজার টাকা। ডা. রুস্তম আলী ফরাজী নিজের শশুরবাড়িতে দিয়েছেন তিন থেকে চারটি পানির ট্যাংক বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, হাসান নামের এক ব্যক্তির নামে কয়েক দফা ঐচ্ছিক তহবিলের টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। হাসানের বাবার নাম বাবুল মিয়া ঠিকানা সূর্যমনি, টিকিকাটা। ঠিকানার সূত্র ধরে খোঁজ পাওয়া যায় হাসানের। এ বিষয়ে হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমি এমপি মহোদয়ের ব্যক্তিগত সহকারী হিসাবে চার-পাঁচ বছর কাজ করছি। কিন্তু ঐচ্ছিক তহবিলের টাকা নেইনি কখনো। তিনি বলেন, আমি কেবল সংসদ সদস্যের কথামতো স্বাক্ষর করেছি। তিনি ঐচ্ছিক তহবিলের সব টাকা বাসায় এনে যাকে মন চায় দিতেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন কাজ করলেও আমাকে বেতন দেওয়া হয়নি। বেতনের টাকা তুলে এমপি মহোদয়ের স্ত্রীর হাতে দিতে হতো। চলাফেরার জন্য আমাকে মাত্র চার হাজার টাকা দেওয়া হতো।হাসান ছাড়া আরও অন্তত ২০ জনের সঙ্গে কথা হয়েছে এই প্রতিবেদকের, যাদের নামে ঐচ্ছিক তহবিলের টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ জনই বলেছেন তারা কোনো টাকা পাননি। এমনকি অনেকে জানেনই না তাদের নামে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে এসব সাধারণ মানুষ নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।স্থানীয় একটি প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মরিয়ম আক্তার। কাগজে-কলমে তিনি সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে দশ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন। তবে আদতে তিনি টাকা হাতে পাননি। এ বিষয়ে জানতে মরিয়ম আক্তারকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, আমি এমপির কাছে ঐচ্ছিক তহবিলের টাকার জন্য কোনো আবেদনও করিনি। টাকাও তোলেনি। এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান।এমনই আরেকজন স্থানীয় বাবুল মিয়ার মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকি। কাগজে-কলমে তার নামেও টাকা তোলা হয়েছে দশ হাজার। তবে তিনি বিষয়টি জানেন না বলে জানিয়েছেন যুগান্তরকে। তিনি বলেন, আমি ওসব জানি না। টাকাও পাইনি। রোমানা নামে আরেক নারীও একই কথা বলেছেন। তার নামে দশ হাজার টাকা উঠানো হলেও তিনি জানান, কখনোই তিনি কোনো টাকা হাতে পাননি। দুলাল নামের একজনের নামেও টাকা তোলা হয়েছে। তবে দুলালকে ফোন করা হলে তিনি টাকা পাননি বলে জানান। তবে কয়েকজন জানিয়েছেন, তাদের সংসদ সদস্যের লোকজন দুই হাজার টাকা নিতে বলেছিলেন। কিন্তু তাদের নামে বরাদ্দ হওয়া দশ হাজার টাকা চাইলে তা দিতে অস্বীকার করেন। পরে তারা ওই টাকাও নেননি।একইভাবে সংসদ সদস্যের চাচাতো ভাইয়ের ছেলে তুষখালী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাওলানা মাসুম, অপর চাচাতো ভাইয়ের ছেলে হাফেজ নাসির, কলেজ শিক্ষক বিপুল বিশ্বাস, বাশার, ভাগনে মো. কামাল, মেয়ের গাড়ি চালক মুশতাক, নিজ অফিস স্টাফ সোলায়মান, সাবেক পিএ মাসুম, ভাগনে জসিম, নাতি সম্পর্কিত মুসাসহ অন্তত কয়েকশ নিকটাত্মীয়র নামে ঐচ্ছিক তহবিলের টাকা তোলা হয়েছে। এছাড়া টাকা বরাদ্দের তালিকায় নাম রয়েছে সংসদ সদস্যের নিজ নামে প্রতিষ্ঠিত ডা. রুস্তম আলী ফরাজী কলেজের অধ্যক্ষ এবং আ. ওহাব আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষের নাম।এদিকে ২০১৯-২০ অর্থবছরে সাধারণ মানুষের সুপেয় পানির কষ্ট দূর করতে সরকার ৪৭ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে মঠবাড়িয়ায় নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে প্রকল্প হাতে নেয়। সেখানে তিন হাজার লিটার বৃষ্টির পানি ধারণক্ষমতার সাত হাজার ৪০০ পানির ট্যাংক দেওয়ার পাশাপাশি পাঁচটি পাবলিক টয়লেট, ১০০টি ডিপ টিউবওয়েল, কয়েকটি প্ল্যান্ট এবং পুকুর পুনর্খনন করার কথা ছিল। প্রকল্পের প্রতিটি পানির ট্যাংকির জন্য সুবিধাভোগীদের সরকার নির্ধারিত দেড় হাজার টাকা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও গুনতে হয়েছিল পাঁচ-সাত হাজার টাকা পর্যন্ত। শুধু গরিবদের ঘরপ্রতি একটি করে ট্যাংক বরাদ্দের কথা থাকলেও খোদ সংসদ সদস্যের শ্বশুরবাড়িতে তিন-চারটি ট্যাংক দেওয়া হয়। ট্যাংক বিক্রি করার অভিযোগও উঠেছিল পাশের উপজেলা পাথরঘাটায়।সার্বিক বিষয়ে জানতে মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঊর্মি ভৌমিককে ফোন করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে পরে পরে ফোন করতে বলেন। তবে পরে অনেক চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে জানতে কয়েকদিন ধরে অনেকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর কোন ফোন রিসিভ করেননি। প্রথমে তার সহকারী ফোন রিসিভ করলেও পরে তিনিও আর কোন তথ্য দেননি। রুস্তম আলী ফরাজী জাতীয় সংসদের পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান।

পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. তিরান হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রুস্তম আলী ফরাজী একটি মিটিংয়ে আছেন। মিটিং শেষ হলে কথা বলে প্রতিবেদককে জানাবেন তাকে বারবার ফোন দেয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।