
স্টাফ রিপোর্টার ভোলা।।
ভোলার চরফ্যাশনে গতকাল শুক্রবার বার রাতে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে জলদস্যু ভেবে মৃত্যু থেকে বাঁচতে নদীতে ঝাপ; চাচা মিজানুর রহমান মাঝি এবং ভাতিজা রাব্বি। অবশেষে অন্য জেলেরা রাতেই ত মরদেহ উদ্ধার করে।নিহতরা হলেন মো. রাব্বি (১৫) ও মিজানুর রহমান মাঝি (৪৭) । নিহত দুজন সম্পর্কে চাচা ভাতিজা বলে জানা যায়। তাঁরা গতকাল রাতে ট্রলারযোগে মেঘনা নদীতে মাছ শিকারে গিয়েছে। নিহত দু’জনসহ ট্রলারটিতে ৬ জন জেলে ছিলেন। নিহতরা হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের চর পক্ষিরা গ্রামের বাসিন্দ।
শশিভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান পাটোয়ারী আজ রোববার বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ওসি জানান, মিজানুর রহমান মাঝি তাঁর ভাতিজা রাব্বিসহ ৬ জন জেলে নিয়ে গতকাল রাত ৮টার দিকে মেঘনা নদীতে মাছ শিকারে যায়। একপর্যায়ে তাদের ট্রলারের পাশ দিয়ে দ্রুতগতিতে আরেকটি ট্রলার যাচ্ছিল। সেসময় রাব্বিসহ ট্রলারে থাকা সকলে মনে করেছিল পাশ দিয়ে যাওয়া ট্রলারটি জলদস্যুদের। সেই ভয়ে রাব্বি হঠাৎ করে নদীতে ঝাপ দেয়। সে (রাব্বি) সাঁতার জানতো না। নদীতে থাকা কারেন্ট জালে রাব্বির পা পেঁচিয়ে যায়। তখন ভাতিজা রাব্বিকে বাঁচাতে চাচা মিজানুর রহমানও নদীতে ঝাপ দেয়। এরপর চাচা মিজানুর রহমানেরও পা জালে আটকিয়ে যায়। পরে ট্রলারে থাকা অন্যান্য জেলেরা নদী থেকে তাদেরকে মৃত উদ্ধার করে। উদ্ধার করা অবস্থায় তাদের দুজনের শরীরে কারেন্ট জাল পেঁচানো ছিল।
ওসি আরও জানান, নিহতদের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই। এবং তাদের পরিবার থেকে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। নিহতদের পরিবার বিনা ময়নাতদন্তে তাদের মরদেহ দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। পরে শশিভূষণ থানায় এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিনা ময়নাতদন্তে নিহতদের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

















