
জান্নাতীন নাঈম জীবন/পবিপ্রবি প্রতিনিধি।।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হাজারো শিক্ষার্থীকে স্বপ্ন দেখানো এক আঁতুড়ঘর।দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা ছুটে আসে সেই স্বপ্নালয়ে।কারো স্বপ্ন বুননের , আবার কারো স্বপ্নভঙ্গের কারিগর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়।
সাধারণত মধ্যবৃত্ত পরিবারের সন্তানেরা পড়াশোনা করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে।শিক্ষার্থীদের বড় একটা অংশ টিউশনির মাধ্যমে নিজের খরচ যোগাড় করে, কেউ আবার পরিবারের খরচও বহন করে। এখন আসল কথায় আসি,দেশের প্রায় সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ই গ্রামীণ জনপদে অবস্থিত।হাতেগোনা কয়েকটি শুধু শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত।শিক্ষার্থীরা সাধারণত হলে অবস্থান করে শিক্ষাজীবন পরিচালনা করে থাকে যদি ও এখনো সব জায়গায় সকল শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা নেই। প্রত্যকটা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু ফাঁকাস্থান, খেলার মাঠ, পুকুর পাড়,দর্শনীয় স্থান,বিশেষ কিছু স্থাপনা রয়েছে যেগুলো শিক্ষার্থীদের বিনোদন, আড্ডা কিংবা হতাশা দূর করে। ক্লাস,পরীক্ষা, ল্যাব,ভাইভা,প্রেজেন্টেশনের এক মহা জাল ছিড়ে শিক্ষার্থীরা সেখানে সময় কাটিয়ে থাকে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য ক্রমশই এই স্থানগুলো এখন বহিরাগতদের আড্ডা,নেশা,ইভটিজিং স্থলে পরিণত হয়েছে।
কথা হলো দক্ষিণবঙ্গের প্রতিষ্ঠান পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নূরুন্নবীর সাথে। তিনি বললেন, দিনের বেলায় বিশ্ববিদ্যালয়কে মনে হয় কোনো দর্শনীয় স্থান তখন এটা ভেবে ভালো লাগে যে আমার বিশ্ববিদ্যালয় কতই না সুন্দর যার সৌন্দর্য কতো মানুষ দেখতে আসে কিন্তু হঠাৎই যখন আমার বন্ধু তার পা হারিয়ে চিৎকার দিয়ে উঠে তখন তাকিয়ে মনে হয় এটাতো ড্রাইভিং শেখার কোনো মাঠ কিংবা প্রতিষ্ঠান নয়।রাতের বেলায় স্থানগুলো দেখে মনে হয় নিজের অজান্তেই কোনো বারে যেন প্রবেশ করছি।গাঁজার ধোঁয়া আর সিগারেটের আবছা আলো সর্বত্র ছড়িয়ে থাকে। প্রশাসনের নেই তেমন কোনো পদক্ষেপ। তবে শুধু প্রশাসন নয় শিক্ষার্থীরাও কিছুটা দ্বায়ী। কারণ, কিছু কিছু শিক্ষার্থী তাদের মাধ্যমে মাদক সংগ্রহ করে থাকে যার ফলে তাঁরা আসার সুযোগ পায় আবার অনেক শিক্ষার্থী বহিরাগতদের টিউশন করায়। এছাড়াও সরকারদলীয় লোকাল ছাত্র রাজনীতি বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ এবং অবস্থানের অন্যতম একটি কারণ।
দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় থাকুক বহিরাগত মুক্ত, হোক শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল।

















