
স্টাফ রিপোর্টার ভোলা।।
জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে সরকারের মৎস বিভাগ ইলিশের অভয়াশ্রমগুলোতে ৬০ দিনের জন্য সব ধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে গত ১লা মার্চ বুধবার থেকে ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাত ১২টা পর্যন্ত। এতে করে বেকার হয়ে পড়েছে ভোলার জেলে পরিবারগুলো।
ইলিশ ধরা নিষেধাজ্ঞার ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো জেলে পুনর্বাসনের চাল পাননি ভোলার বেশিরভাগ জেলে। এতে অভাব-অনটন আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে বেকার জেলেদের। দেনা আর মহাজনের দাদনের দায় মাথায় নিয়ে কষ্টে কাটাচ্ছেন তারা। সংকট দূর করতে ইলিশ নিষেধাজ্ঞা সময়ের মধ্যেই সরকারি চাল পেতে চান জেলেরা। তবে মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন খুব দ্রুত এ চাল বিতরণ প্রক্রিয়া শেষ হবে। এদিকে নিবন্ধিত হয়েও ৭০ হাজার জেলের ভাগ্যে চাল জুটবে না। এতে ক্ষোভ আর অসন্তোষ বাড়ছে ওই সব জেলের।
ইলিশের অভয়াশ্রম রক্ষায় ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর ১৯০ কিলোমিটার এলাকায় ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ। আর তাই বেকার জেলেদের চলছে দুর্দিন। আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় পরিবার- পরিজন নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন তারা।
সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকায় নদীতে যেতে না পারায় একদিকে সংসারের চিন্তা, অন্যদিকে এনজিও আর মহাজনের ঋণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় জেলেরা এমন বাস্তবতায় জেলেদের জন্য ৮০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও তা পৌঁছায়নি পাঁচ দিনেও। এতে চরম জীবিকা সংকটে পড়েছেন জেলেরা।
ভোলা সদরের তুলাতলী, ইলিশা, ধনিয়া ও ভোলার খালসহ বেশ কয়েকটি ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, ইলিশ ধরা বন্ধ থাকায় বেকার সময় পার করছেন জেলেরা। কেউ জাল বুনছেন, কেউবা নৌকা মেরামত করে সময় পার করছেন।
হারুণ নামে এক জেলে বলেন, পাঁচ দিন হয়ে গেছে এখনো চাল পাইনি, কবে পাব তাও জানি না।
এনজিও থেকে কিস্তি নিয়ে সংকটে পড়েছেন রহমান, শাফিজল ও লোকমান মাঝি। তারা বলেন, নদীতে যাই না, উপার্জন বন্ধ হয়ে গেছে। এখন কীভাবে সংসার চালাব আর কীভাবে কিস্তি দেব।
এমন সংকট শুধু তাদের নয়, বেশিরভাগ জেলেরই একই অবস্থা। তারা দ্রুত চাল পাওয়ার দাবি করছেন।
জেলা মৎস্য অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, জেলার সাত উপজেলায় নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন এক লাখ ৫৮ হাজার। তাদের মধ্যে ভিজিএফ চাল বরাদ্দ হয়েছে ৮৯ হাজার জেলের নামে। যে কারণে প্রায় ৭০ হাজার জেলে সরকারি চাল থেকে বঞ্চিত।
এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্লাহ বলেন, কিছু কিছু ইউনিয়নে চাল বিতরণ শুরু হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্য বাকি জেলেরাও চাল পেয়ে যাবেন।
তিনি বলেন, ইলিশ নিষেধাজ্ঞার এ মাসে যাতে এনজিওগুলো জেলেদের কাছ থেকে কিস্তি না তোলে সে জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
ধনিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এমদাত হোসেন কবির বলেন, আমরা চাল পেয়েছি, আগামী দুদিনের মধ্যে তা বিতরণ করা হবে।
নিবন্ধিত সব জেলেকে চাল দেওয়ার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ভোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিষয়টি মৎস্য বিভাগকে বলা হয়েছে। যাতে নিবন্ধিত সব জেলে চাল পায়।
এদিকে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই সব জেলেকে চাল পৌঁছে দেওয়ার দাবি মেঘনার-তেঁতুলিয়ার জেলেদের।

















