Dhaka , Saturday, 9 May 2026
নিবন্ধন নাম্বারঃ ১১০, সিরিয়াল নাম্বারঃ ১৫৪, কোড নাম্বারঃ ৯২
শিরোনাম ::
সিলেট ও শ্রীমঙ্গলে ঝড় ও বজ্রাপাতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।। মানুষকে ভালোবাসেন বলেই তাদের টানে আমেরিকা ছেড়ে দেশের এসে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন- দেলোয়ার মোমেন।। শরীয়তপুরে পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা কালে জনতার হাতে যুবক আটক।। রামগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ আরাফাতের  নিজস্ব অর্থায়নে রাস্তা সংস্কার।। রূপগঞ্জে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ঈদসামগ্রী বিতরণ।। তিতাসের জিয়ারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেনের শিক্ষকতার দুই যুগপূর্তি।। কোম্পানীগঞ্জে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার- স্বামী পলাতক।। নরসিংদী বৃষ্টির কারনে পশুর হাটে বেচা কেনা কম।। মায়ের সামনে পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে শিশুর মৃত্যু।। ঈদুল আযহা উপলক্ষে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে টানা ৮ দিন আমদানি রপ্তানি বন্ধ।। শেখ কামাল আইটি ট্রেনিংয়ে সারাদেশের মধ্যে প্রথম হয়েছে রাজাপুরের মশিউর রহমান তামিম।। সুন্দরগঞ্জের দহবন্দ ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরণ।। কুমিল্লা পিটিআই কর্তৃক সততা নৈতিকতা ও শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলেন- তানজুরুন নাহার।। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সদরপুরে বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর শুভ সূচনা।। সড়কতো নয় যেন ধান শুকানোর চাতাল।। তিতাসে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণ অনুষ্ঠিত।। ঈদ উপলক্ষে হিলিতে বিনামূল্যে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসাবে চাল বিতারণ।।  পাবনায় হত্যায় মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।। আই-ইইই ইবি স্টুডেন্ট ব্রাঞ্চের সভাপতি পিয়াস সম্পাদক ইকবাল।। পাবনা জেলা স্কুল জাতীয় পর্যায়ে কুইজ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয়।। সিলেটে বৃস্পতিবার সকাল থেকে ভারী বৃষ্টিপাত-ফের জলাবদ্ধতার শঙ্কা।। জনপ্রিয়তা ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রফিক আমার নামে মিথ্যাচার চালাচ্ছে- আবুল বাশার  বাদশা।। নিখোঁজের দুদিন পর মাদরাসা ছাত্রের মরদেহ মিলল ঘাটলার নিচে।। ঝালকাঠিতে হত্যা মামলায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৪ জনের যাবজ্জীবন।। সুন্দরগঞ্জে পশুর হাট নিয়ে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে ৩ রাউন্ড গুলি বিনিময়- পুলিশসহ আহত ১০।। নোয়াখালীতে পানিতে ডুবে দুই বোনের মৃত্যু।। পাবনায় শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নছিমন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ২ জন নিহত আহত -৭ জন।। রূপগঞ্জ কাঞ্চন পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী রফিক সমর্থকদের উপর হামলা।। ৩৬ দিন পর যুবকের লাশ উত্তোলন- ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের।। শিবচরে আগুনে ১৩ গরু মারা গেছে।।

হিল উইমেন্স ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় : 04:32:25 pm, Thursday, 9 March 2023
  • 45 বার পড়া হয়েছে

এস চাঙমা সত্যজিৎ
বিশেষ প্রতিনিধি।।

খাগড়াছড়িতে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের শোভাযাত্রা, প্রতিবাদী নৃত্য ও সমাবেশ করেছে হিল উইমেন্স ফেডারেশন পার্বত্য চট্টগ্রামের নারী নির্যাতনসহ সকল অন্যায় দমন-পীড়ন বন্ধের দাবি জানিয়েছে।

হিল উইমেন্স ফেডারেশনের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও আন্তর্জাতিক নারী দিবসে খাগড়াছড়িতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, প্রতিবাদী নৃত্য ও সমাবেশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলনরত নারী সংগঠন হিল উইমেন্স ফেডারেশন।

আজ বুধবার ৮ মার্চ ২০২৩ সকাল ৯টার সময় খাগড়াছড়ি চেঙ্গী স্কেয়ারে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশের আগে খাগড়াছড়ি উপজেলা মাঠ থেকে ২৫০ জনের একটি দল মিছিল নিয়ে চেঙ্গী স্কোয়ারে অবস্থান নেয়।

এছাড়াও রাঙামাটি রোডের চেঙ্গী ব্রীজ থেকে একটি মিছিল এবং দীঘিনালা রোডের নারিকেল বাগান থেকে একটি মিছিল চেঙ্গী স্কোয়ার মোড়ে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। এতে খাগড়াছড়িসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৬শ’ জনের অধিক নারী ও ছাত্রী অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশের শ্লোগান হচ্ছে- “নারীর নিরাপত্তা ও সম্ভ্রম রক্ষায় রাষ্ট্র ব্যর্থ, আসুন, নিজেদের সম্ভ্রম রক্ষার্থে ঐক্যবদ্ধ হই, আন্দোলন গড়ে তুলি!”

সমাবেশে এ যাবত পার্বত্য চট্টগ্রামে অধিকার আদায় করতে গিয়ে যারা অপহরণ, খুন, গুমের শিকার হয়েছেন এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ প্রতিরোধ করেছেন তাদের প্রতীকী হিসেবে সাংস্কৃতিক স্কোয়াড প্রতিবাদী নৃত্য পরিবেশন করে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি নীতি চাকমা। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রিতা চাকমার সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন হিল জউইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সদস্য এন্টি চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের সভাপতি কণিকা দেওয়ান। এছাড়া সমাবেশে এসে সংহতি জানিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়েছেন চট্টগ্রাম ধানসিড়ি স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষিকা মুন্নি ধর।

নারী সংঘের সভাপতি কনিকা দেওয়ান তার বক্তব্যে বলেন, পাহাড়ে নিরাপত্তার নামে বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্প স্থাপন ও সেটলার পূনর্বাসনের কারণে নারী ধর্ষণ, খুন, গুম ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন সময়ে নারী ধর্ষণের ঘটনা ও সাম্প্রতিক সময়ে পানছড়ি, মাটিরাঙ্গা, বান্দরবান, রাঙামাটিতে পাহাড়ি নারী ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টা এবং রাঙ্গুনিয়ায় এক পাহাড়ি নারী এনজিও কর্মীকে খুনের ঘটনা কোন বিচ্ছন্ন ঘটনা নয়। ১৯৯৬ সালে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক কল্পনা চাকমা অপহরণের ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত না হওয়ার বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে পাহাড়ে নারী ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। একদিকে নারী ধর্ষণ অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রতিনিয়ত ভূমি বেদখলসহ বান্দরবানে লামা সরইয়ে ৪০০ একরের অধিক রাবার বাগানের নামে ম্রো ও ত্রিপুরা জাতিসত্তার জনগণকে নিজ বাস্তুভিটা থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র করে চলেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধা নারীরা পর্যন্ত বাড়ি থেকে সর্বত্র অনিরাপদ হয়ে পড়েছে।

নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমাদেরকে আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার আদায়ের জন্য পুরুষদের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে চালিয়ে যাতে হবে। তিনি একমাত্র পূর্ণস্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই পাহাড়ে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হতে পারে বলে মন্তব্য করেন।

সভাপতির বক্তব্যে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি নীতি চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে নারীদের ওপর যৌন আক্রমণ আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিককালে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের মধ্যে ধর্ষণ অকল্পনীয়, পাহাড়িদের ভাষায় ধর্ষণের প্রতিশব্দও নেই। শাসকগোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে পাহাড়ে নারীদের ওপর যৌন আক্রমণে প্ররোচনা দিচ্ছে, ধর্ষকদের রক্ষা করে চলেছে। ধর্ষণের মেডিক্যাল রিপোর্ট প্রদানে সরকারি নিষেধাজ্ঞা তারই প্রমাণ। এই নিপীড়ক সরকার পাকিস্তানীদের কায়দায় রাষ্ট্রীয়ভাবে পাহাড়ি জনগণের ওপর জাতিগত নিপীড়ন চালাচ্ছে। তার প্রধান টার্গেটে পরিণত হয়েছেন নারীরা।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা কোনো সামাজিক বা নৈতিক সমস্যা নয়। এটি একটি রাষ্ট্রীয় সমস্যা। এখানে সেনাশাসন ‘অপারেশন উত্তরণ ও দমনমূলক অগণতান্ত্রিক ‘১১ নির্দেশনা’ জারি রেখে অন্যায় দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। যেভাবে সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসার, আর্মড পুলিশ মোতায়েন করে প্রতনিয়ত ধরপাকড়, ঘরবাড়ি তল্লশি, মিথ্যা মামলায় হয়রানি, নারী নির্যাতন, ভূমি বেদখলসহ নানা জুলুম-নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আমাদেরকে জাতিগতভাবে বিলুপ্ত করা এবং এটি সরকার পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে উস্কে দিচ্ছে।

তিনি এদেশের প্রশাসন ও রাষ্ট্রের পলিসিতে পাকিস্তানিদের প্রেতাত্মা ভর করেছে বলে মন্তব্য করে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে পাশবিক নির্যাতনের মাধ্যমে শাসকগোষ্ঠী পাহাড়ি জাতিসমূহকে শংকর বানিয়ে তাদের জাতিগত পরিচয় লুপ্ত করে দিতে চায়। ধর্ষণের মেডিক্যাল রিপোর্ট দেয়ার ক্ষেত্রে সরকার-সেনাবাহিনীর গোপন নিষেধাজ্ঞা জারি থাকায় এ যাবত যত পাহাড়ি নারী ধর্ষণ-খুনের শিকার হয়েছেন, তার কোন ঘটনারই বিচার হয়নি। কারণ, ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও গোপন নিষেধাজ্ঞার কারণে বরাবরই মেডিক্যাল রিপোর্টে নেগেটিভ ফলাফল দেয়া হয়ে থাকে। যার ফলে অপরাধীরা পার পেয়ে যায় এবং পরবর্তীতে তারা সেনা, প্রশাসন ও সরকার দলীয় দুর্বৃত্তদের সহায়তায় পূনরায় একই অপরাধ কর্ম চালিয়ে যায়।

তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালের ১২ জুন লে. ফেরদৌস গং কর্তৃক অপহৃত হিল উইমেন্স ফেডারেশনের ফেডারেশন তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক কল্পনা চাকমা অপহরণের ২৭ বছর হতে চললো, কিন্তু আমরা এ ঘটনার বিচার আজো পাইনি। একইভাবে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের ভিতরে সোহাগী জাহান তনুর হত্যার বিচারও হয়নি। তবে আমরা বিচার না পেলেও হাল ছাড়বো না মিছিল চেঙ্গি স্কোয়ার থেকে বের হয়ে মহাজনপাড়া ঘুরে স্বনির্ভর এসে শেষ হয়।

ট্যাগ :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপগঞ্জে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রীর নির্দেশে নির্মিত চার সড়কের উদ্বোধন।।

পেকুয়ায় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে প্লাবিত,২ শত পরিবার পানিবন্দী।।

সিলেট ও শ্রীমঙ্গলে ঝড় ও বজ্রাপাতের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।।

হিল উইমেন্স ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

আপডেট সময় : 04:32:25 pm, Thursday, 9 March 2023

এস চাঙমা সত্যজিৎ
বিশেষ প্রতিনিধি।।

খাগড়াছড়িতে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের শোভাযাত্রা, প্রতিবাদী নৃত্য ও সমাবেশ করেছে হিল উইমেন্স ফেডারেশন পার্বত্য চট্টগ্রামের নারী নির্যাতনসহ সকল অন্যায় দমন-পীড়ন বন্ধের দাবি জানিয়েছে।

হিল উইমেন্স ফেডারেশনের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও আন্তর্জাতিক নারী দিবসে খাগড়াছড়িতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, প্রতিবাদী নৃত্য ও সমাবেশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলনরত নারী সংগঠন হিল উইমেন্স ফেডারেশন।

আজ বুধবার ৮ মার্চ ২০২৩ সকাল ৯টার সময় খাগড়াছড়ি চেঙ্গী স্কেয়ারে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশের আগে খাগড়াছড়ি উপজেলা মাঠ থেকে ২৫০ জনের একটি দল মিছিল নিয়ে চেঙ্গী স্কোয়ারে অবস্থান নেয়।

এছাড়াও রাঙামাটি রোডের চেঙ্গী ব্রীজ থেকে একটি মিছিল এবং দীঘিনালা রোডের নারিকেল বাগান থেকে একটি মিছিল চেঙ্গী স্কোয়ার মোড়ে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। এতে খাগড়াছড়িসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৬শ’ জনের অধিক নারী ও ছাত্রী অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশের শ্লোগান হচ্ছে- “নারীর নিরাপত্তা ও সম্ভ্রম রক্ষায় রাষ্ট্র ব্যর্থ, আসুন, নিজেদের সম্ভ্রম রক্ষার্থে ঐক্যবদ্ধ হই, আন্দোলন গড়ে তুলি!”

সমাবেশে এ যাবত পার্বত্য চট্টগ্রামে অধিকার আদায় করতে গিয়ে যারা অপহরণ, খুন, গুমের শিকার হয়েছেন এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ প্রতিরোধ করেছেন তাদের প্রতীকী হিসেবে সাংস্কৃতিক স্কোয়াড প্রতিবাদী নৃত্য পরিবেশন করে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি নীতি চাকমা। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রিতা চাকমার সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন হিল জউইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সদস্য এন্টি চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের সভাপতি কণিকা দেওয়ান। এছাড়া সমাবেশে এসে সংহতি জানিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়েছেন চট্টগ্রাম ধানসিড়ি স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষিকা মুন্নি ধর।

নারী সংঘের সভাপতি কনিকা দেওয়ান তার বক্তব্যে বলেন, পাহাড়ে নিরাপত্তার নামে বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্প স্থাপন ও সেটলার পূনর্বাসনের কারণে নারী ধর্ষণ, খুন, গুম ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন সময়ে নারী ধর্ষণের ঘটনা ও সাম্প্রতিক সময়ে পানছড়ি, মাটিরাঙ্গা, বান্দরবান, রাঙামাটিতে পাহাড়ি নারী ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টা এবং রাঙ্গুনিয়ায় এক পাহাড়ি নারী এনজিও কর্মীকে খুনের ঘটনা কোন বিচ্ছন্ন ঘটনা নয়। ১৯৯৬ সালে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক কল্পনা চাকমা অপহরণের ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত না হওয়ার বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে পাহাড়ে নারী ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। একদিকে নারী ধর্ষণ অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রতিনিয়ত ভূমি বেদখলসহ বান্দরবানে লামা সরইয়ে ৪০০ একরের অধিক রাবার বাগানের নামে ম্রো ও ত্রিপুরা জাতিসত্তার জনগণকে নিজ বাস্তুভিটা থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র করে চলেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধা নারীরা পর্যন্ত বাড়ি থেকে সর্বত্র অনিরাপদ হয়ে পড়েছে।

নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমাদেরকে আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার আদায়ের জন্য পুরুষদের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে চালিয়ে যাতে হবে। তিনি একমাত্র পূর্ণস্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই পাহাড়ে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হতে পারে বলে মন্তব্য করেন।

সভাপতির বক্তব্যে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি নীতি চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে নারীদের ওপর যৌন আক্রমণ আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিককালে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের মধ্যে ধর্ষণ অকল্পনীয়, পাহাড়িদের ভাষায় ধর্ষণের প্রতিশব্দও নেই। শাসকগোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে পাহাড়ে নারীদের ওপর যৌন আক্রমণে প্ররোচনা দিচ্ছে, ধর্ষকদের রক্ষা করে চলেছে। ধর্ষণের মেডিক্যাল রিপোর্ট প্রদানে সরকারি নিষেধাজ্ঞা তারই প্রমাণ। এই নিপীড়ক সরকার পাকিস্তানীদের কায়দায় রাষ্ট্রীয়ভাবে পাহাড়ি জনগণের ওপর জাতিগত নিপীড়ন চালাচ্ছে। তার প্রধান টার্গেটে পরিণত হয়েছেন নারীরা।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা কোনো সামাজিক বা নৈতিক সমস্যা নয়। এটি একটি রাষ্ট্রীয় সমস্যা। এখানে সেনাশাসন ‘অপারেশন উত্তরণ ও দমনমূলক অগণতান্ত্রিক ‘১১ নির্দেশনা’ জারি রেখে অন্যায় দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। যেভাবে সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসার, আর্মড পুলিশ মোতায়েন করে প্রতনিয়ত ধরপাকড়, ঘরবাড়ি তল্লশি, মিথ্যা মামলায় হয়রানি, নারী নির্যাতন, ভূমি বেদখলসহ নানা জুলুম-নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আমাদেরকে জাতিগতভাবে বিলুপ্ত করা এবং এটি সরকার পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে উস্কে দিচ্ছে।

তিনি এদেশের প্রশাসন ও রাষ্ট্রের পলিসিতে পাকিস্তানিদের প্রেতাত্মা ভর করেছে বলে মন্তব্য করে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে পাশবিক নির্যাতনের মাধ্যমে শাসকগোষ্ঠী পাহাড়ি জাতিসমূহকে শংকর বানিয়ে তাদের জাতিগত পরিচয় লুপ্ত করে দিতে চায়। ধর্ষণের মেডিক্যাল রিপোর্ট দেয়ার ক্ষেত্রে সরকার-সেনাবাহিনীর গোপন নিষেধাজ্ঞা জারি থাকায় এ যাবত যত পাহাড়ি নারী ধর্ষণ-খুনের শিকার হয়েছেন, তার কোন ঘটনারই বিচার হয়নি। কারণ, ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেও গোপন নিষেধাজ্ঞার কারণে বরাবরই মেডিক্যাল রিপোর্টে নেগেটিভ ফলাফল দেয়া হয়ে থাকে। যার ফলে অপরাধীরা পার পেয়ে যায় এবং পরবর্তীতে তারা সেনা, প্রশাসন ও সরকার দলীয় দুর্বৃত্তদের সহায়তায় পূনরায় একই অপরাধ কর্ম চালিয়ে যায়।

তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালের ১২ জুন লে. ফেরদৌস গং কর্তৃক অপহৃত হিল উইমেন্স ফেডারেশনের ফেডারেশন তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক কল্পনা চাকমা অপহরণের ২৭ বছর হতে চললো, কিন্তু আমরা এ ঘটনার বিচার আজো পাইনি। একইভাবে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের ভিতরে সোহাগী জাহান তনুর হত্যার বিচারও হয়নি। তবে আমরা বিচার না পেলেও হাল ছাড়বো না মিছিল চেঙ্গি স্কোয়ার থেকে বের হয়ে মহাজনপাড়া ঘুরে স্বনির্ভর এসে শেষ হয়।