মো.ইমরান হোসেন
স্টাফ রিপোর্টার।।
গাজীপুরে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে টানা আটদিন বন্ধ থাকার পর পোশাক কারখানাগুলো খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আজ মঙ্গলবার সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিয়েছেন।
পুলিশ, কারখানা কর্তৃপক্ষ, শ্রমিকরা জানায়, বেতন বৃদ্ধির দাবিতে দীর্ঘদিন গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকার পোশাক শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা সড়ক, মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন। বিভিন্ন কারখানা, যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এছাড়া ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় শ্রমিক পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ অবরোধ চলাকালে এবং শ্রমিক পুলিশ সংঘর্ষে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় তিনজনের মৃত্যু হয়। পরে শ্রমিক আন্দোলনের মুখে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এরপর গতকাল এবং আজ থেকে গাজীপুরের প্রায় সকল পোশাক কারখানা খুলে দেওয়া হয়েছে। আর শ্রমিকরাও শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন। দুই একটি ছাড়া প্রায় সব কারখানায় খুলে দেওয়া হয়েছে।
গত কয়েক দিনের শ্রমিক আন্দোলনে গাজীপুরের পোশাক কারখানা, যানবাহনসহ বিভিন্ন ভাঙচুরের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পুলিশের গাড়ি ও কারখানা ভাঙচুরের দায়ে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পুলিশ ও কারখানা কর্তৃপক্ষ। দুটি মামলায় দশ হাজারের বেশি শ্রমিককে আসামি করা হয়েছে।
কোনাবাড়ী এলাকার পোশাক শ্রমিক বেলায়েত হোসেন, মৌচাক এলাকার বিউটি আক্তার, চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার সুরাইয়া আক্তার জানান, কারখানা খুলে দিয়েছে ফলে আমরা কাজে যোগ দিয়েছি। কাজ না করলে বেতন পাবো না। তখন পরিবার-পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।
স্বাধীন বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশন গাজীপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো.মতিউর রহমান বলেন, আজ মঙ্গলবার গাজীপুর ও কোনাবাড়ী এলাকার সকল পোশাক কারখানা চালু করেছে। শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কাজ শুরু করেছে। শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি সাড়ে ১২ হাজার টাকা নির্ধারণ ও গ্রেডিং সন্তোষজনক। যারা আন্দোলনের নামে মহাসড়কে যানবাহন ও কারখানা ভাঙচুর -অগ্নিসংযোগ করেছে তাদের সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে সনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি।
গার্মেন্টস শ্রমিক -কর্মচারী ফেডারেশন লিয়াজোঁ কমিটির কালিয়াকৈর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো.রফিক দেওয়ান বলেন, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১২ হজার ৫০০ টাকা ঘোষণা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। সত্যিই বিজিএমইএ- ও সরকারকে ধন্যবাদ। মৌচাক, সফিপুর, পল্লীবিদ্যুৎ ও চন্দ্রা এলাকার সকল পোশাক কারখানা চালু রয়েছে। শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজে যোগদান করেছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার সারোয়ার আলম জানান, শ্রমিক আন্দোলনের মুখে বিভিন্ন পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছিল কারখানা কর্তৃপক্ষ। কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর আজ সকালে দুই একটি ছাড়া গাজীপুরের প্রায় সকল কারখানা খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরে শ্রমিকরাও শান্তিপূর্ণভাবে কারখানায় কাজে যোগ দিয়েছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটনের পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রহমান জানান, শ্রমিকরা নতুন বেতন মেনে নিয়ে কারখানায় কাজে যোগ দিয়েছেন। শান্তিপূর্ণভাবে শ্রমিকরা কাজ করছেন। মঙ্গলবার দুপুর ২ টা পর্যন্ত গাজীপুরের কোথাও কোনো শ্রমিক আন্দোলনের খবর পাওয়া যায়নি।

















